ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) কামান আধুনিকীকরণ পরিকল্পনা চরম সঙ্কটের মুখে বলে জানাল দেশের বেসরকারি প্রতিরক্ষা খাত। দেশীয়ভাবে তৈরি অ্যাডভান্সড টাউড আর্টিলারি গান সিস্টেম বা ATAGS-এর জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে বৃহৎ অর্ডার জারির আবেদন করেছে বেসরকারি সংস্থাগুলি। তাদের যুক্তি, সেনাবাহিনী বর্তমানে যে ৩০৭টি ATAGS বন্দুক অর্ডার করার ইঙ্গিত দিয়েছে, তা সেনাবাহিনীর প্রকৃত চাহিদা—প্রায় ২,০০০ কামানের প্রয়োজন—তুলনায় অনেক কম।
বেসরকারি কোম্পানিগুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, বৃহৎ অর্ডার ছাড়া ভারতে ব্যাপক উৎপাদন এবং কারখানার পরিচালনা কঠিন হবে। তারা বলছে, এত কম সংখ্যক বন্দুক অর্ডার করলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমানো যাবে না, তেমনি নতুন কারখানায় করা বিশাল বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার করাও কঠিন হবে।
কেন বাল্ক অর্ডার অপরিহার্য?
ATAGS-এর মতো বড় এবং জটিল দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য বাল্ক অর্ডার বা এককালীন বৃহৎ অর্ডার অত্যন্ত জরুরি। বেসরকারি কোম্পানিগুলি জানিয়েছে:
-
খরচ হ্রাস: যদি অর্ডারটি ১,০০০ ইউনিটের মতো বড় হয়, তবে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেক কমে যায়। ফলে সামরিক বাহিনী কম দামে বিশ্বমানের এই বন্দুকটি পেতে পারে।
-
কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ: বেসরকারি কোম্পানিগুলি নতুন কারখানায় ব্যাপক বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য বড় অর্ডারের উপর নির্ভর করে। ধারা ৩০৭ এর কম সংখ্যক অর্ডার তাঁদেরকে বড় বিনিয়োগ করতে নিরুৎসাহিত করে। একইসাথে, বড় অর্ডার দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করে।
-
সেনাবাহিনীর চাহিদা: চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে গোলা-বারুদ শক্তি জোরদার করার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর বর্তমানে ২,০০০ এরও বেশি নতুন আর্টিলারি বন্দুকের তীব্র প্রয়োজন। ATAGS-এর মতো বন্দুক মোতায়েনের ফলে সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার আক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, যা পাহাড়ি সীমান্তের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি খাতের দাবি, তাদের এই চাহিদা প্রকৃত এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচিত দ্রুত এই বিষয়ে মোকাবিলা করা। একমাত্র বৃহৎ অর্ডার জারি করলেই ATAGS-এর মতো বিশ্বমানের দেশীয় বন্দুকগুলি দ্রুত তৈরি করা সম্ভব হবে এবং সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের আধুনিকীকরণের চাহিদা পূরণ করা যাবে।