সাপ মেরে ৪.৫ মিলিয়ন ভিউ! রাতারাতি শ্রীঘরে মালদার কন্টেন্ট এডিটর, কী চরম ভুল করলেন যুবক?

সোশাল মিডিয়ায় দ্রুত পরিচিতি লাভ এবং অর্থ উপার্জনের নেশা এবার এক যুবককে শ্রীঘরে পাঠাল। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন উপেক্ষা করে বিষাক্ত চন্দ্রবোড়া সাপ পিটিয়ে হত্যার ভিডিয়ো পোস্ট করার অভিযোগে মালদার এক কন্টেন্ট এডিটরকে গ্রেফতার করেছে বন দফতর। ওই ভিডিয়োটি ইতিমধ্যে সাড়ে চার মিলিয়ন (৪.৫ মিলিয়ন) ভিউ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

গ্রেফতার হওয়া যুবকের নাম আব্বাস মোমিন (২১), তিনি ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মোমিনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। জানা যায়, অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন আব্বাস। মাসখানেক আগে গ্রামের আমবাগানে একটি বিষাক্ত চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মিললে তিনি সেটিকে পিটিয়ে মারেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে রাখেন। প্রথমে সেই ক্লিপ দিয়ে তৈরি কন্টেন্ট তেমন সাড়া না ফেলায়, তিনি সেটির ‘রি-মেক’ করেন এবং পুনরায় পোস্ট করেন। দ্বিতীয়বারের পোস্টে সেটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাড়ে চার মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে যায়।

আব্বাসের এই বিতর্কিত কনটেন্ট পৌঁছে যায় ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর কাছে। ব্যুরোর নির্দেশ অনুযায়ী, মালদা জেলা বন দফতর তদন্তে নেমে আব্বাসকে আটক করে। দীর্ঘ জেরার মুখে আব্বাস ভাইরাল ভিডিয়ো তৈরির কথা স্বীকার করে নেন। এরপরই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনের নির্দিষ্ট ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হলে মুখ্য দায়রা বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

বন দফতরের মালদা রেঞ্জের রেঞ্জার সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, “সোশাল মিডিয়ায় সাপ মারার ভিডিয়ো নজরে আসার পরই তদন্ত শুরু হয়। যুবকটি নিজেই সাপ মারার কথা স্বীকার করেছে। আমরা আশা করব, এরপর কেউ বন্যপ্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে না।”

ভুলের মাশুল গুনতে বসা আব্বাস মোমিন বলেন, “বন্যপ্রাণ আইনের বিষয়টি আমার মাথায় ছিল না। বেশি ভিউ পাওয়ার আশায় আমি দু’বার ভিডিয়োটি পোস্ট করেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব মাথায় রেখেই কনটেন্ট বানাব।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy