তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রাজভবনে গোলাবারুদ মজুত রয়েছে’ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কলকাতা রাজভবন। সাংবিধানিক ও আইনি পথে সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাজভবন রবিবার এক বিবৃতিতে তাঁকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করেছে।
বিবৃতিতে রাজভবন জানায়, “সাংসদ, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং সাংবাদিকরা—সর্বোচ্চ ১০০ জন—তাৎক্ষণিকভাবে রাজভবন পরিদর্শনে আসতে পারেন। দেখে যাচাই করে নিন, অভিযোগ অনুযায়ী কোনও অস্ত্র বা গোলাবারুদ এখানে মজুত আছে কি না। যদি অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সাংসদের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত এবং ঘৃণাভাষণের জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিত।”
একইসঙ্গে, রাজভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে কর্তৃপক্ষ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের নিরাপত্তার বেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রাজভবনে অস্ত্র ঢুকতে পারল, তা নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত হওয়া উচিত। রাজ্যপাল—যিনি জেড প্লাস নিরাপত্তাভুক্ত—ও রাজভবন কর্মীদের জন্য এই ধরনের অভিযোগ একটি বড়সড় হুমকি বলেও দাবি করা হয়েছে।
জানা গেছে, রাজ্যপালের নিরাপত্তা আধিকারিকরা পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে সাময়িকভাবে রাজভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও রাজ্যপাল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি রাজভবনেই থাকব, যাই হোক না কেন।” রাজভবন আরও জানিয়েছে, এই গুরুতর অভিযোগের তদন্তের জন্য লোকসভার স্পিকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে এবং সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হবে। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপালকে “একটি অপদার্থ রাজ্যপাল” এবং “বিজেপির চাকরি বাকর রাজ্যপাল” বলে কটাক্ষ করেন এবং অভিযোগ করেন যে রাজ্যপাল বিজেপি-র ‘ক্রিমিনালদের’ ডেকে এনে তাদের বন্দুক ও বোমা দিচ্ছেন তৃণমূল কর্মীদের মারার জন্য।
অভূতপূর্ব এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে কলকাতার রাজভবনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। সবার নজর এখন পরবর্তী আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের দিকে।