মৃত্যুর আগেই ময়নাতদন্ত—এই অবিশ্বাস্য তথ্যগত ভুলই এখন চরম বিপাকে ফেলেছে দুবরাজপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জনার্দন গড়াইকে। তাঁর বাবা অমূল্য গড়াইয়ের (৭৩) অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমন সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাস্তব ঘটনার সঙ্গে ভীষণভাবে বেমানান। এই ভয়ানক ভুলের জেরে বাবার মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে জনার্দনকে এখনও হন্যে হয়ে ঘুরতে হচ্ছে।
ঘটনাস্থল ও ভুলের কারণ:
দুবরাজপুরের লালবাজার এলাকার বাসিন্দা অমূল্য গড়াই চলতি বছরের ৮ এপ্রিল (২০২৫) আত্মঘাতী হন বলে পরিবারের দাবি। সেদিনই তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। কয়েক মাস পরে রিপোর্ট হাতে এলে দেখা যায়, সেখানে মৃত্যুর সময় হিসেবে লেখা রয়েছে নভেম্বর ২০২৪—অর্থাৎ বাবার প্রকৃত মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস আগের সময়।
এই অস্বাভাবিক তথ্যগত ভুলের কারণে জনার্দন যখন বাবার মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহ করতে দুবরাজপুর পৌরসভায় যান, তখন পৌরসভা তা দিতে অস্বীকার করে। পৌরসভার যুক্তি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যখন দেখানো হয়েছে মৃত্যুর আগেই ময়নাতদন্ত হয়েছে, তখন সঠিক মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব নয়।
পরিবারের চরম ভোগান্তি:
জনার্দনের ক্ষোভ, “বাবা মারা গেছেন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু পোস্টমর্টেম রিপোর্টে দেখাচ্ছে ২০২৪ সালের নভেম্বর। এই ভুলের জন্য আমাকে থানার চক্কর কাটতে হচ্ছে, হাসপাতাল যেতে হচ্ছে। পৌরসভা বলছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের তথ্য ঠিক না হলে মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া যাবে না। কিন্তু রিপোর্ট না পেলে ব্যাংকের টাকাও ছাড়াতে পারছি না। প্রমাণই দিতে পারছি না বাবা মৃত না জীবিত!”
এদিকে, দুবরাজপুর থানা সূত্রে দাবি, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভুল সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যেই আবেদন করা হয়েছে। সিউড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার প্রকাশচন্দ্র বাগ এই ভুল স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি জানান, “কম্পিউটারে এন্ট্রি করার সময় ভুল হয়েছে। তা শুধরে দেওয়া হচ্ছে।”