মৃত্যুর আগে কৃষকের শেষ ইচ্ছা! ৭৩ বছর বয়সে যা করে গেলেন, তা অনুপ্রেরণা দেবে শিক্ষিত সমাজকেও!

তমলুকের রামতারক হাট এলাকার বাহির আগড় গ্রামের বাসিন্দা, কৃষক প্রসাদ চন্দ্র জানা (৭৩) তাঁর জীবনাবসানের পর এমন এক কাজ করে গেলেন, যা শিক্ষিত সমাজকেও অনুপ্রেরণা দেবে। পুঁথিগত শিক্ষা বিশেষ ছিল না, সারা জীবন চাষবাস নিয়েই মেতে ছিলেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে তাঁর মহৎ ইচ্ছানুসারেই পরিবার তাঁর দেহ তুলে দিল তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের হাতে।

এই ২০২৫ সালেও যখন তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও মৃত্যুর পর অঙ্গদান বা দেহদান নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা কুণ্ঠা দেখা যায়, তখনই প্রত্যন্ত গ্রামের এক কৃষক এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। প্রসাদ চন্দ্র জানা প্রমাণ করলেন, ইচ্ছে থাকলে সব কিছু সম্ভব।

দেহদানের অঙ্গীকার এবং শেষ ইচ্ছা

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রসাদ চন্দ্র জানার মরনোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারের কথা। তিনি ২০১৯ সালের শেষের দিকেই এই মহৎ কাজের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। ২০২২ সালে দুর্গাপূজার সময় কোলাঘাটের একটি পুজো কমিটির আয়োজিত দেহদান শিবিরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন। এই কাজে তাঁর প্রতিবেশী প্রশান্ত সামন্ত তাঁকে সম্পূর্ণভাবে সাহায্য করেছিলেন।

সবচেয়ে আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে তাঁর শেষ সময়ে। মৃত্যুর আগের দিন হাসপাতালে যাওয়ার সময় গাড়িতে তিনি পরিবারের সদস্যদের বলে গিয়েছিলেন, “আমি যদি মারা যাই তোরা, আমার দেহদান করে দিবি হাসপাতালে।”

তাঁর শেষ ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে পরিবারের সম্মতি নিয়ে তাঁর দেহ তাম্রলিপ্ত গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে দান করা হয়। একজন কৃষক, যিনি জীবনভর মাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁর এই কাজ মরণোত্তর দেহদানের ক্ষেত্রে সমাজে সচেতনতা বাড়াতে এক নতুন মাইলফলক হয়ে রইল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy