বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী মহাগঠবন্ধন জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ এবং উপমুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী, বিকাশশীল ইনসান পার্টি (VIP)-এর প্রধান মুকেশ সাহানির চরম ভরাডুবি হল। নিজেকে সগর্বে ‘মাল্লার ছেলে’ (জেলেদের নেতা) হিসাবে পরিচয় দিতে অভ্যস্ত সাহানি এই নির্বাচনে একটিও আসনে জয়লাভ করতে পারেননি।
রাজনীতির কারবারিদের ধারণা ছিল, গোটা উত্তর বিহারের জেলে সম্প্রদায়ের উপর সাহানির প্রভাব কাজে লাগিয়ে জোট বড় লাভবান হবে। একসময় আরজেডি-র বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে রাজনীতিতে পা রাখা এই নেতা, এবার রাজনৈতিক স্বার্থে তেজস্বী যাদব এবং রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছিল, তেজস্বীর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাহুল গান্ধী নাকি সাহানিকে অন্যতম ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
তবে এই সমস্ত কৌশলই ব্যর্থ হলো। মহাজোটের দরকষাকষি করে তিনি ১২টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনেও এই দল ৪টি আসনে জয় পেয়েছিল। কিন্তু, ২০২৫-এর নির্বাচনে ভিআইপি (VIP) ১২টি আসনের ১২টাতেই শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো। স্বয়ং মুকেশ সাহানি এবার ভোটে না দাঁড়ালেও তাঁর ভাই গৌরা বৌরাম আসন থেকেও জিততে পারেননি।
দুপুর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত ভোট গণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জোটের এই ভরাডুবির স্পষ্ট চিত্র দেখা যায়। মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে NDA শিবির ২০৮টি আসনে এগিয়ে ছিল, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘মহাগঠবন্ধন’-এর এগিয়ে থাকা আসন কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ২৮টিতে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুকেশ সাহানিকে বিহারের জনজাতির মুখ হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু, পরবর্তীকালে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তুলে তিনি বিজেপি ছেড়ে নিজের দল গড়েন। ভোটের আগে জেলেদের সঙ্গে জলে নেমে বিরোধী শিবিরের নৈকট্যের বার্তা দিতে চেয়েছিলেন রাহুল, কিন্তু সেই উদ্যোগও সাহানির ভরাডুবির কারণে সফল হলো না।