নদীয়ার করিমপুরে সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং প্রাক্তন সাংসদ পিনাকি মিশ্রের বিয়ের সংবর্ধনা (রিসেপশন) অনুষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তবে সেই অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই মহুয়া মৈত্রকে কেন্দ্র করে এক নতুন রাজনৈতিক ও আইনি অধ্যায় শুরু হয়েছে।
মহুয়া মৈত্র-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট: কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে (CBI) লোকপাল (Lokpal) নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে।
তবে এই মুহূর্তে প্রসিকিউশন (Prosecution) শুরু করার অনুমতি এখনও দেওয়া হয়নি। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করলে তার পরেই প্রসিকিউশনের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে। লোকপাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত রেপুটেড পাবলিক সার্ভেন্ট (RPS)-এর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের আবেদনই এই মুহূর্তে বিবেচনার বিষয়। মামলার প্রসিকিউশন বা পরবর্তী ধাপ অনুমোদনের জন্য এখন সময় উপযুক্ত নয়।” এই অনুমতিটি ২০১৩ সালের লোকপাল ও লোকায়ুক্ত আইনের ধারা ২০(৭)(এ) ও ২৩(১)-এর অধীনে দেওয়া হয়েছে।
গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ: মামলার সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে আদালত কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে গত অগাস্ট মাসে মহুয়া মৈত্র দিল্লি হাইকোর্টে অভিযোগ করেছিলেন যে, সিবিআইর রিপোর্ট লোকপালের কাছে জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।
মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উপহার, টাকা ও সুবিধা গ্রহণের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া, সাংসদদের জন্য তৈরি ইমেল আইডির পাসওয়ার্ডও সেই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তিনি ভাগ করেছিলেন বলে অভিযোগ।
এখন সিবিআইর চার্জশিট দাখিলের অপেক্ষায় সকলে। চার্জশিট আদালতে জমা পড়ার পরই আদালত নির্ধারণ করবে অভিযোগ গ্রহণ করা হবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই লোকপাল পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করবেন।