তিন বছর তিন মাস কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়ে অবশেষে নিজের কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে ফিরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের একদা মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তিনি ক্লিনচিট পাননি। ফলস্বরূপ, দলও তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। এমতাবস্থায়, দলীয় সমর্থনহীন অবস্থায় এবার সরাসরি জনতার আদালত-এ নিজের গ্রহণযোগ্যতার পরীক্ষা দিতে চাইছেন তিনি।
বেহালা পশ্চিমের ম্যান্টনে তাঁর একদা বন্ধ থাকা পার্টি অফিসে বসানো হয়েছে একটি ‘জনবাক্স’—যা সাধারণ মানুষের জনমত ও অভিযোগ সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হবে। ম্যান্টনের যে অস্থায়ী ঘরে তিনি বসতেন, সেটি ভেঙে ফেলা হলেও, পরিত্যক্ত সেই অফিসের সামনেই নতুন রূপে শুরু হচ্ছে পার্থর ‘জন সংযোগ’।
ইতিমধ্যেই তাঁর অনুগামীরা এলাকায় লিফলেট বিতরণ শুরু করেছেন, যেখানে প্রাক্তন মন্ত্রীর সোজাসাপটা বার্তা: “আমি কার কাছ থেকে চাকরির বদলে টাকা নিয়েছি? প্রমাণ নিয়ে আসুন। যদি কেউ আমার নামে টাকা নিয়েছে, তাও জানান। ব্যবস্থা নেব আমি।”
পার্থর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলি প্রমাণহীন। তাই প্রমাণ থাকলে তা যেন সরাসরি এই ‘জনবাক্সে’ জমা দেওয়া হয়। প্রথমে শুক্রবার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, এখন শোনা যাচ্ছে রবিবার থেকে তিনি জনগণের অভিযোগ শুনতে পারেন।
পার্থ-ঘনিষ্ঠ এক নেতা জানিয়েছেন, এই ‘জনবাক্স’ আপাতত ম্যান্টনেই থাকবে এবং এখানে প্রাপ্ত সব মন্তব্য ও অভিযোগ বিধায়কের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি, আবার কেউ কেউ একে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন কৌশল হিসেবে দেখছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস বা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য পার্থর এই উদ্যোগ নিয়ে এখনও নীরব। এখন দেখার, ‘জন বাক্স’-এর মাধ্যমে সংগৃহীত জনতার রায় কি এই প্রাক্তন মন্ত্রীকে রাজনীতির ময়দানে নতুন কোনও পথ দেখাতে পারে কিনা।