বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে গত ৬ নভেম্বর। এই পর্ব শেষ হওয়ার চার দিন পরেও নির্বাচন কমিশন ভোটারদের লিঙ্গ ভিত্তিক বিন্যাস (পুরুষ ও মহিলার ভোটের শতাংশ) প্রকাশ না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ভোট চুরি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অসৎ আচরণ বিরোধীরা বরদাস্ত করবে না।
তেজস্বীর মূল অভিযোগ:
- তথ্য গোপনের অভিযোগ: তেজস্বী বলেন, “বিহারের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়েছে ৬ নভেম্বর। কিন্তু চার দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নির্বাচন কমিশন ভোটারদের লিঙ্গ ভিত্তিক বিন্যাস হার প্রকাশ করেনি। এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম। এর আগে অতি দ্রুত এই তথ্য প্রকাশ করা হত।”
- মোদি-শাহকে নিশানা: তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও এই বিষয়ে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, মোদি ও শাহের নেতৃত্বেই সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
- কমিশনকে হুঁশিয়ারি: তেজস্বী নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অমিত শাহের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ধরনের কাজ করলে কমিশনের আধিকারিকদের “ভয়ঙ্কর পরিণতি” হবে। তিনি স্পষ্ট জানান, ভোট চুরি এবং কোনওরকম অসততা আরজেডি বরদাস্ত করবে না।
নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন নিয়ে প্রশ্ন:
তেজস্বী প্রথম দফার ভোটগ্রহণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে ২০৮ কোম্পানি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছিল। শুধু তাই নয়, তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ পুলিশ পর্যবেক্ষকও আনা হয়েছিল বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকেই। এই ‘নির্বাচনী পক্ষপাতিত্ব’-এর কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আরজেডি নেতা।
প্রেক্ষাপট:
প্রথম দফার নির্বাচনে মোট ভোটদানের হার ছিল ৬৪.৬৯ শতাংশ, যা রেকর্ড সংখ্যক বলে দাবি করে কমিশন। তবে লিঙ্গভেদে ভোটদানের হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষত বিহার সরকারের ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-র মতো প্রকল্প ঘোষণার পর, যা বিরোধীদের মতে মহিলা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা। এই কারণেই বিরোধী শিবির ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।