বিহার বিধানসভা নির্বাচনে (Bihar Election) এনডিএ-র বিপুল জয়ের পরদিনই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং (Ex Union Minister RK Singh) এবং দলের এমএলসি অশোক আগরওয়ালকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspend) করেছে বিজেপি। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন আরাহের প্রাক্তন সাংসদ আর কে সিং। সূত্রের খবর, বিজেপি তাঁকে বহিষ্কার (Sack) করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তার আগেই দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: আর কে সিং এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁদের দলবিরোধী মন্তব্য ও আচরণে বারবার দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কটিহারের মেয়র উষা আগরওয়ালকেও একই কারণে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার সকালে রাজ্য বিজেপি দফতরের প্রধান অরবিন্দ শর্মা তিন নেতার কাছে শোকজ-সহ (Show Cause) বরখাস্তের নোটিস পাঠান।
নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়—দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের আচরণে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ হচ্ছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কেন তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। রাজনৈতিক গুঞ্জন ছিল, এই সাময়িক বরখাস্ত কেবল ‘প্রক্রিয়া’, শেষ পর্যন্ত তিন নেতাকেই বহিষ্কার করা হবে।
আর কে সিং-এর বিস্ফোরক মন্তব্য: আরাহের প্রাক্তন সাংসদ ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং গত কয়েক মাস ধরে বিহারে এনডিএ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে জোরালো সমালোচনা করে আসছিলেন। ২০২৪ লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি দলের বিশেষ কিছু নেতার বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছিলেন।
তাঁর আক্রমণের মূল নিশানায় ছিলেন বিজেপির উপমুখ্যমন্ত্রী ও বিহারের নেতা সম্রাট চৌধুরী (Samrat Choudhury)। প্রশান্ত কিশোরের দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে আর কে সিং সরাসরি চৌধুরী এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ জৈসওয়ালকে আক্রমণ করেন। তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে ‘দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার’ অভিযোগ তোলেন এবং মন্তব্য করেন—“এদের ভোট দেওয়ার থেকে জলে ডুবে মরা ভাল।” তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে চৌধুরীকে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে জেডিইউ-র প্রভাবশালী নেতা অনন্ত সিং সম্পর্কেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এত সমালোচনার পরও সম্রাট চৌধুরী এবং আর কে সিং দুজনেই নিজেদের আসনে জয়ী হন। শনিবার বরখাস্তের চিঠি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আর কে সিং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর বিজেপির এই কঠোর ব্যবস্থা দলীয় শৃঙ্খলা আরও শক্ত করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।