বিয়ে ও ধর্ষণের অভিযোগ, বহিষ্কৃত তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতারে গড়িমসি! পুলিশ সুপারের কাছে গেলেন নির্যাতিতা

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রিয়নাথ সাউকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও এই গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরই কাউন্সিলরকে দল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু দলীয় বহিষ্কারের পরেও অভিযুক্ত পুলিশি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় সোমবার সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার (SP)-এর সঙ্গে দেখা করলেন নির্যাতিতা মহিলা

নির্যাতিতার মূল অভিযোগ:

  • গ্রেফতারিতে গড়িমসি: নির্যাতিতার অভিযোগ, প্রিয়নাথ সাউ একজন প্রভাবশালী কাউন্সিলর হওয়ার কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।
  • প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি ও হুমকি: এফআইআর দায়ের হওয়ার ১১ দিন পরেও অভিযুক্ত রামপুরহাট শহরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
  • পুলিশের অসহযোগিতা: হুমকির বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও কাউন্সিলর এখনও অধরা। নির্যাতিতার দাবি, “পুলিশ আমাকে কোনো রকম সহযোগিতা করছে না।”

ঘটনার সূত্রপাত:

তরুণীর অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে প্রিয়নাথ সাউয়ের সঙ্গে তাঁর মেলামেশা ছিল এবং এর ফলে তাঁদের একটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু এরপরই অভিযুক্ত কাউন্সিলর তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে এবং প্রাণে মারার হুমকি দিতে থাকে। বাধ্য হয়ে ওই তরুণী ২৯ অক্টোবর রামপুরহাট থানায় এফআইআর দায়ের করেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

এই বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার এবং রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ওকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বহিষ্কার করেছি। এখন এটা পুলিশের কাজ। পুলিশ কী করবে সেটা আমরা বলতে পারব না।”

যদিও এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ মুখ খুলতে চাননি। দল বহিষ্কার করলেও পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রামপুরহাট শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy