বনগাঁর লাইফলাইন ‘ইছামতী’কে বাঁচাতে ঝাঁপ পুরসভার, কচুরিপানা মুক্ত করতে ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে আধুনিক যন্ত্র কেনার প্রস্তুতি!

এক সময়ের খরস্রোতা ইছামতী নদী আজ বনগাঁর বুক চিরে বইছে এক ‘মৃতপ্রায়’ রূপে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, যেন সবুজ মাঠ এঁকেবেঁকে চলে গেছে বহুদূর—আসলে এই সবুজতা হলো কচুরিপানার আস্তরণ। নাব্যতা হারানো এই নদীতে শেষ কবে জোয়ার-ভাটা খেলেছিল, তা ভুলতে বসেছেন নদীপাড়ের মানুষ।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার পদক্ষেপ নিল বনগাঁ পৌরসভা

পুরসভার স্থায়ী উদ্যোগ ও খরচ:

বনগাঁ পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, নদীকে কচুরিপানামুক্ত করতে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজছে কর্তৃপক্ষ।

  • দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ আধুনিক যন্ত্র কেনার প্রস্তুতি চলছে, যা নদীর কচুরিপানা সমস্যার স্থায়ী সমাধান দেবে।
  • তাৎক্ষণিক কাজ: তবে এর আগেই প্রায় দুই মাস ধরে ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ যন্ত্র দিয়ে নদীর কচুরিপানা কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে।
  • সাফল্য: পুরপ্রধান গোপাল শেঠ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বনগাঁ শ্মশান ঘাট থেকে আপনজন মাঠ পর্যন্ত ৪.৫ কিলোমিটার নদীপথ কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বঞ্চনার সুর:

পুরপ্রধান গোপাল শেঠ ইছামতীর করুণ অবস্থার জন্য কেন্দ্রকেই দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “ইছামতী একটি আন্তর্জাতিক নদী। বনগাঁর বড় সমস্যা হলো ইছামতীর ভাসমান কচুরিপানা। এর সার্বিক সংস্কারের দায়িত্ব কেন্দ্রের। কিন্তু কেন্দ্রের বঞ্চনার জন্যই ইছামতীর সংস্কার হচ্ছে না। ফলে প্রতি বছর বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।” কেন্দ্রের অসহযোগিতা সত্ত্বেও পুরসভা নিজের উদ্যোগে এই কাজ চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয়দের আশা: ফিরবে বিভূতিভূষণের ইছামতী:

স্থানীয় বাসিন্দারা পুরপ্রধান গোপাল শেঠের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, “এটা শুধু বিভূতিভূষণের ইছামতী ছিল না, এটা আমাদেরও নদী, তাকে বাঁচাতে হবে।” তাঁরা বিশ্বাস করেন, ইছামতী সংস্কার হলে শুধু বনগাঁ শহর নয়, নদীর দুই পাড়ের অসংখ্য গ্রামের মানুষও নতুন জীবন ফিরে পাবেন—জেলেরা মাছের সন্ধানে নৌকা ভাসাবেন এবং যুবক-যুবতীরা সাঁতার প্রতিযোগিতার স্বপ্ন দেখবে। এক কথায়, “ইছামতী সংস্কার হলে সবুজ ফিরবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy