“প্রধানমন্ত্রীর মা-কে অপমানের জবাব দিয়েছে বিহার”, কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ সম্বিত পাত্রের

১৬ দিনের ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’ এবং তার পরবর্তীকালে রাহুল গান্ধীর ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’-র মতো প্রচার কৌশল বিহার নির্বাচনে ফলপ্রসূ হল না। এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের বিপরীতে কংগ্রেস-আরজেডি মহাজোট মুখ থুবড়ে পড়তেই বিজেপি আক্রমণে নেমেছে।

ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, বিহারের জনগণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মা-কে নিয়ে করা ‘অপমানের জবাব’ দিয়েছে।

সম্বিত পাত্র বলেন, “আমি সমাজমাধ্যমে দেখছি, কংগ্রেস নেতা কর্মীরা রাহুল গান্ধীকে বলছেন, যখনই উনি কু-মন্তব্য করেন, তার মাশুল দলকে দিতে হয়।” তিনি ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন, “২০১৯ সালে রাহুল গান্ধী বলেছিলেন ‘চৌকিদার চোর হে’, তার ফল কী হয়েছিল? বিজেপি ৩০০-র বেশি আসন লাভ করে আর কংগ্রেস জঘন্যভাবে হেরে যায়।”

কটাক্ষের সুর আরও চড়িয়ে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আপনি (রাহুল গান্ধী) যদি প্রধানমন্ত্রী, তাঁর মা-এর বিরুদ্ধে অপশব্দ ব্যবহার করেন, অসম্মান করেন তাহলে কোনো ক্ষমা নেই। বিহারের মানুষ কংগ্রেসের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রীর মা-কে অপমান বিতর্ক:

উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলায় ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’-এর মঞ্চ থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মা-কে নিয়ে কুমন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিজেপি তীব্র প্রতিবাদে নামে। পাটনা, দিল্লি সহ কলকাতাতেও বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির নেতা কর্মীরা। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাহুল গান্ধীকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক ভার্চুয়াল বৈঠকে চোখে জল নিয়ে এই অপমানের জবাব দিয়েছিলেন। বিহারের এই ফলাফলকে বিজেপি সেই বিতর্কেরই ফলশ্রুতি বলে মনে করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy