বীরভূমের নলহাটি শহরে শনিবার রাতে এক ভয়াবহ শুটআউটের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে পরপর চারটি গুলি চালানো হয়েছে। গুলিবিদ্ধ ওই মহিলার নাম সীমা খান, যিনি নলহাটি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়ালপাড়ার বাসিন্দা এবং একটি বিউটি পার্লারের মালিক।
গুরুতর জখম অবস্থায় সীমাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগের তির স্বামীর দিকে
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে সীমা তাঁর বিউটি পার্লারটি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির গেটে ঢোকার ঠিক মুখে দরজার কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। চারটি গুলির মধ্যে একটি লাগে বুকে, দুটি হাতে এবং একটি কোমরে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্বামী রজু খানের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি এবং বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। গুলিবিদ্ধের আত্মীয় মনিরা খাতুন জানান, সীমার অভিযোগের ভিত্তিতেই রজু দেড় মাস জেল খেটে জামিন পেয়েছিল। তারই রাগে এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তাঁদের সন্দেহ।
বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, “সীমা খানের স্বামীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগ তাঁর দিকেই।” নলহাটি থানার পুলিশ ইতিমধ্যে রজু খানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে। রাতের শহরে এই গুলি চালনার ঘটনায় নলহাটিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।