দিল্লির লালকেল্লার অদূরে বিস্ফোরণের ঘটনার পর দেশের নিরাপত্তা বাড়াতে এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) ও গুজরাতের আহমেদাবাদ এটিএস (ATS)। এই যৌথ অভিযানে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, ত্রিপুরা, হরিয়ানা ও গুজরাত— মোট পাঁচটি রাজ্যে একযোগে একাধিক সন্দেহভাজন আস্তানায় তল্লাশি শুরু হয়। এনআইএ-র আধিকারিকরা প্রচুর নথি ও বৈদ্যুতিন তথ্য-প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেছেন।
ভুয়ো পরিচয়পত্রে অনুপ্রবেশ ও আল-কায়েদা যোগ
তদন্তকারী সংস্থাগুলির সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গি ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দালালদের মাধ্যমে তারা এই দেশে এসে ভুয়ো ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে ফেলেছে। ভারতীয় নাগরিকের ছদ্মবেশে তারা দেশের যেকোনো প্রান্তে অবাধে ঘোরাফেরা করছে। এই অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা-সহ একাধিক চরমপন্থী গোষ্ঠীর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মগজ ধোলাই ও নতুন কৌশল
সূত্রের খবর, এই জঙ্গিরা দেশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। তাদের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিভিন্ন এলাকার যুবকদের মগজ ধোলাই করা। বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তারা এভাবেই দেশীয় যুবকদের নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করছে।
তবে এই গোষ্ঠীগুলো এখন চেনা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের নাম ব্যবহার না করে নতুন সংগঠনের নামে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই সংগঠনগুলির মধ্যে অনেকেই নিজেদের সামাজিক বা ধর্মীয় সংগঠন বলে দাবি করছে। বাস্তবে, তারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ার কারণে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি ফের একবার নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।