দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারতজুড়ে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়তেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে শঙ্কা ও সামরিক প্রস্তুতি বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষত সীমান্তবর্তী পাঞ্জাব প্রদেশে পাক সেনার নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনার আবহে পাকিস্তান আর্মি অ্যাভিয়েশনের অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলোকে জেলম শহরের আকাশে যুদ্ধাভ্যাস চালাতে দেখা গেছে, যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই অঞ্চলটি ভারত-পাক সীমান্তের ওয়াঘা পয়েন্ট থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জেলম শহরটিকে বহু দশক ধরে পাকিস্তান সেনার উত্তর ও কেন্দ্রীয় কমান্ডের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক করিডর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কী দেখা গেছে জেলমের আকাশে?
সূত্রের খবর, পাকিস্তানি সেনা এই মহড়া পরিচালনা করেছে গুরহা সালিম এয়ারবেস থেকে। যদিও পাকিস্তান সরকার বা আইএসপিআর (ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস) এই হেলিকপ্টার মহড়া নিয়ে কোনও প্রকাশ্য মন্তব্য করেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে AH-1Z Viper বা Mi-35-এর মতো অ্যাটাক হেলিকপ্টারকে শহরের উপর দিয়ে নিম্ন-উচ্চতায় চক্কর দিতে দেখা গেছে। রাতেও যুদ্ধসজ্জার মতো আলো জ্বালিয়ে এদের উড়তে দেখা গেছে।
জেলম শহরটি ‘সিটি অব সোলজার্স’ নামে পরিচিত এবং এখানে বহু সেনা স্থাপনা রয়েছে। ফলে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লেই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানো পাক সেনার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এইবার হেলিকপ্টার মহড়ার পরিমাণ স্বাভাবিক ট্রেনিং-এর মাত্রার বাইরে।
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত এখনও চলছে এবং ভারতীয় গোয়েন্দা মহলে ক্রমশ পাকিস্তানি জঙ্গি নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই পাকিস্তান নিজেদের প্রস্তুতি দেখাতে চাইছে। ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের পাশে এই ধরনের হেলিকপ্টার অপারেশন সাধারণ মহড়ার চেয়ে ভারতকে কৌশলগত বার্তা দেওয়ার জন্যই বেশি ব্যবহৃত হয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, পাকিস্তান কি শুধু সতর্কতা নিচ্ছে, নাকি ভারতকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উত্তেজনা বাড়লে তারা প্রতিরোধে প্রস্তুত?