প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জমানায় প্রথমবার রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) এক বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা (Red Fort) সংলগ্ন এলাকায় পার্কিং লটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে একাধিক গাড়িতে আগুন লেগে যায়। ঠিক সেই দিনই জম্মু ও কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলের পর্দা ফাঁস হয় এবং ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়!
ধৃত ‘হোয়াইট কলার টেরর ইকোসিস্টেম’:
- গ্রেফতার: ফরিদাবাদের আল ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক ডা. মুজাম্মিল শাকিল সহ আরও এক কাশ্মীরি চিকিৎসক এবং এক ইমামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহিন নামে পরিচিত এক মহিলা চিকিৎসককেও আটক করা হয়েছে, যাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছে।
- সন্ত্রাসী যোগ: পুলিশ আশঙ্কা করছে, ধৃতরা জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammad) ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ (Ansar Ghazwat-ul-Hind)-এর আন্তর্জাতিক জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত।
- গোয়েন্দা তথ্য: পুলিশের দাবি, এই প্রথমবার এমন এক ভয়ঙ্কর “হোয়াইট-কলার টেরর ইকোসিস্টেম” উঠে এসেছে, যেখানে শিক্ষিত পেশাজীবী ও ছাত্ররা বিদেশি যোগাযোগের মাধ্যমে অর্থ ও অস্ত্র পাচার করত। এই নেটওয়ার্কটি ‘সামাজিক ও দাতব্য কাজ’-এর আড়ালে চলত।
বিস্ফোরক ও অস্ত্র উদ্ধার:
উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক ও অস্ত্রের তালিকা দেখলে গোয়েন্দারা এটিকে সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরক উদ্ধার বলে মনে করছেন।
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
| অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট | ১৪ বস্তা (প্রায় ১০০ কেজি) |
| আইইডি তৈরির উপকরণ | ৪৮টি সম্ভাব্য |
| রাইফেল ও গুলি | একটি একে-৪৭ রাইফেল ও ৮৪ রাউন্ড গুলি |
| অন্যান্য | টাইমার, রাসায়নিক দ্রবণ, ব্যাটারি ও তারের বান্ডিল |
| বিশেষ তথ্য | মহিলা চিকিৎসকের গাড়ি থেকেও একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার হয়েছে। |
মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া করা বাড়ি থেকেই এই বিপুল বিস্ফোরক মজুত পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, এই নেটওয়ার্কের শাখা দিল্লি-কাশ্মীর ছাড়াও অন্য রাজ্যেও ছড়িয়ে থাকতে পারে।
রাজধানীর এক প্রান্তে বিস্ফোরণ এবং অন্য প্রান্তে এই বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার—এই ঘটনায় গোটা দিল্লি এখন কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।