দক্ষিণ ভারত যা পারেনি, কলকাতায় সফল সেই বিরল মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার, নজির গড়লেন চিকিৎসক অমিতাভ চন্দ

দক্ষিণ ভারতের এক নামী হাসপাতালে অসফল হওয়া জটিল মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার সফলভাবে করে নজির গড়ল কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল। শিলিগুড়ির ২৪ বছর বয়সী এক তরুণীর মস্তিষ্কের গভীরে থাকা বিরল ‘হেমানজিওব্লাস্টোমা’ টিউমার সফলভাবে অপসারণ করেছেন আলিপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালের বিশিষ্ট নিউরো সার্জেন্ট ডা. অমিতাভ চন্দ

বমি ও মাথা যন্ত্রণায় দীর্ঘদিন ভুগছিলেন ওই তরুণী। ২০২২ সালে তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথমে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে অস্ত্রোপচার করালেও, মাত্র ৬-৭ মাসের মধ্যে সমস্যা ফিরে আসে।

রোগিণীর দাদা জানান, “বেঙ্গালুরুতে প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু সমস্যা ফিরে আসায় আবার এমআরআই করে দেখি টিউমার রয়েছে। আমাদের রেডিয়েশন দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু অত খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না।” সেই সময় তাঁরা হতাশ হয়ে কলকাতায় ফিরে আসেন এবং ডা. অমিতাভ চন্দের খোঁজ পান।

অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার: প্রতি পদক্ষেপে মৃত্যুঝুঁকি

ডা. অমিতাভ চন্দ জানান, টিউমারটি ছিল সেরিবেলাম ও ব্রেনস্টেমের সংযোগস্থলে—মস্তিষ্কের অত্যন্ত গভীরে। তিনি বলেন, “অস্ত্রোপচারে সামান্য ভুলেও পক্ষাঘাত, বাকশক্তিহানি এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও ছিল প্রবল। কারণ, এই দুটো জায়গায় এমন কিছু নার্ভ রয়েছে যা আমাদের কথা বলার শক্তি, হাত-পা নাড়ানোর ক্ষমতা এবং শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে।” পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তিনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই লড়াইয়ে টিউমারের ঘন রক্তনালির জট ছাড়াতে গিয়ে বারবার রক্তপাত বাড়লেও, শেষ পর্যন্ত পুরো টিউমারটি অপসারণ করতে সফল হন চিকিৎসক। তিনি আরও জানান, এই বিরল টিউমারটি রেডিয়েশনে কাজ করত না; এর জন্য অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র পথ।

ক্রাউড ফান্ডিংয়ে জীবন বাঁচল

এই জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পরিবারের সামর্থ্যের বাইরে ছিল। পরিবারের অনুরোধের পর ওই বেসরকারি হাসপাতালের উদ্যোগে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে আংশিক অর্থ সংগ্রহ করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তরুণী নিজেই এখন আশাবাদী, “এখানে আমার আবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। বেঙ্গালুরুর থেকেও এখন আমার শারীরিক অবস্থা ভালো।”

ডা. চন্দ শেষ কথাটি বললেন, “একটা ভুল ধারণা আছে—কিছু হলেই মানুষ দক্ষিণ ভারত চলে যায়। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরা বহু রোগী পাই যারা দক্ষিণ ভারতে গিয়েও কোনো সুরাহা পাননি। যথাযথ জায়গায় গেলে এখানেও ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy