তিস্তা সেতুতে পিক-আপ ভ্যান এবং মোটর বাইকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ থাকা তৃতীয় আরোহীর দেহ তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জলপাইগুড়ির সুকান্ত নগর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ি বালাপাড়া সংলগ্ন তিস্তা সেতুর উপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটর বাইক ও পিক-আপ ভ্যানের সংঘর্ষের ফলে দুই বাইক আরোহী রাস্তার উপর ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের মেডিক্যাল কলেজের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তৃতীয় আরোহীর দেহ উদ্ধার: দুর্ঘটনার পর থেকে মোটর বাইকের আরও এক আরোহী নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার প্রায় আট ঘণ্টা পর শনিবার সকালে তিস্তা নদী থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরে জানা যায়, মৃত তৃতীয় ব্যক্তি জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন সুকান্ত নগরের বাসিন্দা বাপি বর্মন। নিখোঁজ থাকা অন্য যুবকের নাম বাপ্পা বর্মন বলে জানা গেছে। বাকিদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠুন কীর্তনীয়া জানান, এদিন সকালে নদীতে জাল ফেলার সময় এক ব্যক্তির দেহ জলে ভাসতে দেখা যায়। তাঁরা শুনেছিলেন আগের দিন তিস্তা সেতুর ওপর দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছিল এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য সেতুর ওপর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ পিক-আপ ভ্যানটিকে আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দুটি গাড়িই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোতয়ালি থানার আইসি অমতাভ দাস জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং মৃতদের সম্পূর্ণ নাম-ঠিকানা জানার চেষ্টা চলছে। তিনজনের দেহই ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।