নয়াদিল্লি: দিল্লির ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Blast) কাণ্ডের তদন্তে এবার বড়সড় মোড়। তদন্তকারী সংস্থাগুলির জোরালো সন্দেহ, জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) যোগে ধৃত আত্মঘাতী হামলাকারী ডাক্তার উমর উন নবি সম্ভবত কুখ্যাত ‘শু-বম্বার’ (Shoe Bomber) কায়দায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। ফরেন্সিক পরীক্ষার নতুন তথ্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে।
তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, উমরের আই-২০ গাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি জুতোর ভিতরেই বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো ধাতব উপাদান পাওয়া গেছে। জুতোটি গাড়ির ড্রাইভারের সিটের নীচে, ডানদিকের সামনের চাকার কাছে পড়েছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জুতো এবং গাড়ির টায়ার—এই দুই জায়গাতেই অতিসংবেদনশীল বিস্ফোরক টিএটিপি (TATP)-এর চিহ্ন মিলেছে। দুনিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এই বিস্ফোরককে ‘মাদার অফ স্যাটান’ নামে চেনে। তদন্তকারীদের ধারণা, শুধু বিস্ফোরক মজুতই নয়, বিস্ফোরণ ঘটানোর প্রাথমিক প্রক্রিয়া (ইনিশিয়েশন মেকানিজম) সম্ভবত জুতোর মাধ্যমেই শুরু করা হয়েছিল।
সূত্রের আরও দাবি, জইশ জঙ্গিরা আগেই বিপুল পরিমাণ টিএটিপি জমা করেছিল বড়সড় হামলার উদ্দেশ্যে। লাল কেল্লার কাছে বিস্ফোরণে টিএটিপি-র সঙ্গে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটও ব্যবহার করা হয়েছিল। গাড়ির পেছনের সিটের নীচেও আরও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ধৃত চিকিৎসক শাহিনের মাধ্যমে এই জঙ্গি মডিউলের কাছে ২০ লক্ষ টাকা পৌঁছেছিল। অভিযোগ, দিল্লির হামলার পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে সেই অর্থই ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তকারীরা এই হামলার কৌশলের সঙ্গে ২০০১ সালের কুখ্যাত রিচার্ড রিড-এর ঘটনার তুলনা টানছেন। রিড আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানে জুতোয় লুকোনো টিএটিপি বিস্ফোরক উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমান ঘটনায় বিস্ফোরক লুকোনোর ধরণ এবং তার অবস্থান রিডের ‘শু বম্ব’ কৌশলের সঙ্গে বেশ মিল রয়েছে বলে তদন্তকারী দল মনে করছে।
সূত্রদের মতে, ধরা পড়া জইশ মডিউলটি ‘ডি-৬’ কোডনেমে যমজ হামলা চালানোর ছক কষেছিল। প্ল্যান-এ ছিল বাবরি মসজিদ ভাঙার বার্ষিকীতে একাধিক শহরে বিস্ফোরণ, যা নস্যাৎ হয়। প্ল্যান-বি ছিল দিল্লিতে হামলা, যা এবারের লাল কেল্লা বিস্ফোরণের মাধ্যমেই কার্যকর করা হয়েছে। তদন্ত দল এখন উদ্ধার হওয়া প্রমাণগুলি মিলিয়ে বিস্ফোরণের সঠিক প্রক্রিয়া ও উমর কীভাবে বিস্ফোরণ শুরু করেন, তা পুনর্গঠন করার কাজ করছে।