জলপাইগুড়িতে বিধ্বংসী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪,১৭৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা, কৃষকদের জন্য ১৭ লক্ষ টাকা অনুদান

জলপাইগুড়ি জেলার বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য বড়সড় সরকারি সুবিধা প্রদান করা হল। জলপাইগুড়ি জিলাপরিষদের হল ঘর থেকে এই সরকারি সুবিধা প্রদান করা হয়, যা উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভার্চুয়ালি ঘোষণা করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-মালিকদের বাড়ি তৈরির টাকা থেকে শুরু করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়া হয়।

ক্ষতিপূরণের বিস্তারিত তথ্য:

জেলাশাসক শামা পারভিন জানান, বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের বাড়ির জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

  • সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পাকা বাড়ি: মোট ২,৫২৮টি বাড়ির মালিককে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হল।
  • আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি: মোট ১,৬৪৩টি বাড়ির বাসিন্দাদের ৭০ হাজার টাকা করে দেওয়া হল।
  • কৃষি জমি: পলি পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫৫ জন কৃষককে মোট ১৭ লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
  • কৃষি কিট: সবজি চাষের জন্য ১,১২৮টি কিট দেওয়া হয় এবং আরও ১৮,০০০ কিট দেওয়া হচ্ছে।
  • পাট্টা বিতরণ: জলপাইগুড়ি জেলাতে ১,৪৬৭ জনকে পাট্টা (জমির দলিল) দেওয়া হয়।

এছাড়াও চা বাগানে ৮টি ক্রেস এবং ৪টি বাগানে স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিষেবা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান জেলাশাসক। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক শামা পারভিন, জিলাপরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মণ, পুলিশ সুপার উমেশ খান্ডবাহাল, মন্ত্রী বুলুচিক বড়াইক-সহ জেলায় বিভিন্ন পুরসভার ও পঞ্চায়েত সমিতির আধিকারিকেরা।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক বিতর্ক:

জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “বন্যার পরই মুখ্যমন্ত্রী ছুটে এসেছিলেন জলপাইগুড়িতে। শিলিগুড়িতে স্টেডিয়াম করা হবে এটা আমাদের বড় পাওনা।”

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি চন্দন ভৌমিক এই ত্রাণ বিতরণের মধ্যে ‘SIR’ (Summary Revision)-কে নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তোলেন। তিনি বলেন, “ভোটের আগে SIR করা হচ্ছে। তাতে অনেক মানুষের ভোটাধিকার কেটে যাবে। নির্বাচন কমিশন এখন কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে গিয়েছে। আমাদের সহায়তা ক্যাম্পের মাধ্যমে SIR-এর সহায়তা করা হবে। কাউকে আতঙ্কিত হতে হবে না।” তিনি অসহায় চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য রাজ্য সরকারের বাসের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy