বাঙালি বাড়িতে যুগ যুগ ধরে চলে আসা ‘লক্ষ্মীর ভাঁড়’-এর সঞ্চয় যে আজও সংসারের বড় ভরসা, তা আবারও প্রমাণ করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের মৌলা গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু চৌধুরী। পেশায় চা-বিক্রেতা বাচ্চু বাবু গত সাড়ে ৪ বছর ধরে একটি বড় প্লাস্টিকের ড্রামে রোজকার খুচরো পয়সা জমিয়েছিলেন। সেই জমানো টাকা দিয়েই তিনি নিজের ও ছোট মেয়ের জন্য একটি স্কুটার কেনার স্বপ্ন পূরণ করলেন।
খুচরো পয়সার বিপুল সম্ভার:
- সঞ্চয়ের পরিমাণ: স্কুটারটি কেনা হয়েছে ৬৯ হাজার ৫৮০ টাকা খুচরো পয়সা দিয়ে, যার সবটাই ছিল ১০ টাকার কয়েন। নোটসহ মোট দাম প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা।
- বিশাল ভাঁড়: এক ড্রাম ভর্তি ১০ টাকার কয়েন নিয়ে বাচ্চু চৌধুরী তাঁর মেয়েকে সঙ্গে করে সোজা স্কুটারের শোরুমে পৌঁছে যান।
- শোরুম কর্মীদের বিস্ময়: শোরুমের ম্যানেজার এবং কর্মীদের প্রথমে এই খুচরো পয়সার কথা জানাননি বাচ্চু বাবু। শোরুমের এক কর্মী অরিন্দম পাল জানান, “উনি প্রথমে স্কুটার পছন্দ করেন। তারপর বাইরে রাখা গাড়ি থেকে তিনজন মিলে ধরে ড্রাম ভর্তি ১০ টাকার কয়েন ভিতরে নিয়ে আসি। তখন উনি বলেন, এই খুচরো টাকা দিয়ে স্কুটার কিনবেন।”
আড়াই ঘণ্টার গণনা:
শোরুম কর্মীরা প্রথমে ইএমআই-তে স্কুটার বিক্রির কথা ভাবলেও, ড্রামের কয়েন গুনে দেখা যায় স্কুটারের দাম উঠে গিয়েছে।
- কয়েন সংখ্যা: আটজন কর্মী প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ছয় হাজার ন’শো আটান্নটি (৬,৯৫৮) ১০ টাকার কয়েন গুনেছেন।
- মোট টাকা: কয়েন এবং পাঁচশো, দুশো ও একশো টাকার নোট মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা হয়।
বাচ্চু চৌধুরীর বক্তব্য:
বাচ্চু চৌধুরী বলেন, তাঁর অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল স্কুটার কেনার। তিনি চা বিক্রি করেন। কাস্টমারদের কাছ থেকে রোজ যে ১০ টাকার কয়েন পেতেন, সেগুলি জমিয়ে রাখতেন। ছোট মেয়ের আবদার মেটাতেই তিনি সেই খুচরো টাকা নিয়ে স্কুটার কিনতে এসেছেন।
সঞ্চয়ের পূর্ব নজির:
জানা গিয়েছে, এর আগেও বাচ্চু চৌধুরী এভাবেই ১০ টাকার কয়েন জমিয়ে ৭০ হাজার টাকার বেশি সংগ্রহ করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি তাঁর বড় মেয়ের বিয়ের খরচ জুগিয়েছিলেন। এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো যে, ছোট ছোট সঞ্চয়ই বড় প্রয়োজন মেটানোর আসল ভরসা।