পূর্ব মেদিনীপুর: ধান পাকার মরসুমে মাঠে নামতে গিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ও এগরা এলাকার কৃষকরা। তাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম বিষধর চন্দ্রবোড়া ও কেউটে সাপ। ঘন সবুজ ধান গাছের আড়ালে এই বিষধর সাপগুলো মিশে থাকায়, সামান্য নড়াচড়াতেই শিহরণ জাগছে চাষিদের মনে। ফলে, পাকা ফসলে শেষ মুহূর্তের কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা।
পটাশপুরের দক্ষিণ খাড় গ্রামের যুবক কানু পাত্র ও যতীন প্রামানিকের মতো কয়েকজন সাপের কামড়ের শিকার হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কৃষকদের দাবি, এ বছর মাঠে চন্দ্রবোড়া সাপের উপদ্রব অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক বেশি। ধান পেকে গেলেও কীটনাশক স্প্রে না করার ফলে ফসল নষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পটাশপুর দুই ব্লকের কৃষক শীবনারায়ণ পাত্রের কথায়, “আমাদের গ্রামেরই দুজন হাসপাতালে ভর্তি। জমিতে নামলেই ভয় পাচ্ছি, কী করব বুঝতে পারছি না।”
চাষিরা জানিয়েছেন, চন্দ্রবোড়া সাপ সাধারণত নড়াচড়া কম করে এবং ধান গাছের সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকে যে তা সহজে চোখে পড়ে না, ফলে ঝুঁকির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।
কৃষি দফতরের আশ্বাস:
কৃষকদের এই উদ্বেগ কমাতে দ্রুত সমাধানের পথ দেখিয়েছে কৃষি দফতর। এগরা ১ নম্বর ব্লকের কৃষি আধিকারিক রিয়াসেন মণ্ডল জানিয়েছেন, “আমরা খুব শীঘ্রই ড্রোনের মাধ্যমে জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা নেব। এতে কৃষকরা মাঠে না নেমেও নিরাপদে স্প্রে করতে পারবেন। আমরা এই পদ্ধতি যত দ্রুত সম্ভব চালু করার চেষ্টা করছি।”
সাপের উপদ্রব বাড়ার কারণ:
সর্প বিশেষজ্ঞ ও জীববিজ্ঞানী ড. সুদীপ্ত কুমার ঘোড়াই, যিনি এগরা কলেজের অধ্যাপক এবং এগরা পুরসভার জীববৈচিত্র্য কমিটির সভাপতি, তিনি এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ধান পাকার সময় মাঠে প্রচুর ইঁদুরের আনাগোনা শুরু হয়। ইঁদুর শিকারের লোভেই সাপেরা মাঠে আসে। এর পাশাপাশি, এই সময়টি চন্দ্রবোড়া সাপের বাচ্চা দেওয়ার সময়, যে কারণে কিছু নির্দিষ্ট জমিতে তাদের উপদ্রব অনেকটাই বেড়েছে। তিনি কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, কেউটে সাপ কিছুদিনের মধ্যেই শীতঘুমে চলে যাবে।
কৃষি জমিতে সাপের বাড়বাড়ন্তে সৃষ্ট ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটলেও, কৃষি দফতরের ড্রোন স্প্রে ব্যবস্থা চালু হলে কৃষকরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।