বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র বিপুল জয়ের পর মালদায় দলের সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতায় এলে বিজেপি শুধু বাংলার মহিলাদের (লক্ষ্মী) কথাই ভাববে না, পুরুষদের (নারায়ণ) জন্যও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং নারায়ণের কর্মসংস্থান: সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বাংলার মা-বোনদের আমরা আশ্বস্ত করছি, বিজেপির ভয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর অর্থ সচিবকে বলেছেন, তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে হাজার টাকা করে বাড়াতে চান।” তবে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ বলে দাবি করে তিনি বলেন, “২০২৫ সালে প্রায় আট লাখ কোটি টাকা ঋণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ প্রত্যেকের মাথার উপর এখন ৭০ হাজার টাকা করে ঋণ রয়েছে। এত ঋণ নিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অত টাকা বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে কিছু টাকা বাড়ানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিজেপির একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে আমি রাজ্যের মহিলাদের আশ্বস্ত করছি, ৫০ টাকা বেশি হলেও তৃণমূল যা ঘোষণা করবে, আমরা তার থেকে বেশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে দেব। শুধু তাই নয়, লক্ষ্মীর সঙ্গে আমরা নারায়ণদের জন্যও ব্যবস্থা করব।”
তাঁর কটাক্ষ, “তৃণমূল এখন লক্ষ্মীদের কাছ থেকে নারায়ণছাড়া করে দিয়েছে। লক্ষ্মী এখন গ্রামে আর নারায়ণদের কেউ গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, বেঙ্গালুরুতে। যেভাবে বিহারে জীবিকা দিদি করা হয়েছে, মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, এখানেও সেটা করা হবে। যাতে তাঁর পরিবারকে তাঁকে ছেড়ে যেতে না-হয়।”
সংখ্যালঘু ভোট এবং উগ্রপন্থী কার্যকলাপ: সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, বিহার নির্বাচনে সংখ্যালঘু মহিলাদের ভোট বিজেপির দিকে গিয়েছে এবং এই রাজ্যেও তার ব্যতিক্রম হবে না।
অন্যদিকে, দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে উত্তর দিনাজপুর থেকে এক চিকিৎসককে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এর আগে যত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, প্রতিটির সঙ্গে কোনও না কোনওভাবে পশ্চিমবঙ্গের নাম জড়িয়ে রয়েছে। এবারও তেমন হলে আমি আশ্চর্য হব না।”
তিনি অভিযোগ করেন, “মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়ার বেশ কিছু অংশ, বীরভূম এখন উগ্রপন্থীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এখানে এখন দুয়ারে উগ্রপন্থী প্রকল্প চালু হয়েছে। এখন দিল্লিতে ফাটাচ্ছে, দু’দিন পর রাজ্যের মানুষের বাড়ির সামনে বোমা ফাটবে।” তিনি বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে প্রশ্ন রাখেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রাজ্য চললে কতটা বিপদ হতে পারে।
বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা: বালুরঘাটের সাংসদ অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের দিকে দিকে বিজেপির উপর হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল। “ডায়মন্ডহারবারের মতো জায়গায় বিজেপির লোকজন আক্রান্ত হচ্ছে। এতেই প্রমাণিত, এরা বিজেপিকে ভয় পাচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “আমরা প্রতিটি রক্তবিন্দুর হিসাব নিয়ে নেব। বাংলায় ইতিমধ্যেই হিন্দুরা এককাট্টা হয়ে গিয়েছে।”
‘আমরা প্রত্যেকে বাঙালি, ভারতমাতার সন্তান’: সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরুতে বিশ্বাস করি না। আমাদের চোখে প্রত্যেকে বাঙালি। প্রত্যেকে ভারতবর্ষের নাগরিক, ভারতমাতার সন্তান। আমরা সর্বধর্ম সমভাব নীতি নিয়ে চলি। বিজেপি উন্নয়নে বিশ্বাস করে।” তিনি সংখ্যালঘু সমাজকে প্রশ্ন করেন, “কেন তাদের কেন বছরের পর বছর কোনও উন্নয়ন হয়নি? কেন তাদের মধ্যে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার আতশকাচ দিয়ে খুঁজতে হয়? কেন মেয়েদের উপর বাড়িতে অত্যাচার হয়, হিংসার ঘটনা ঘটে? এর মূল কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে তাদের প্রত্যেকে মুসলিম হিসাবেই দেখে এসেছে, কেউ মানুষ হিসাবে দেখেনি। বিজেপি তাদের মানুষ হিসাবে দেখতে চায়।”