দিঘা এখন কেবল সমুদ্রসৈকতের শহর নয়, কার্তিক পুজোকে সামনে রেখে উৎসবের আমেজে রঙিন এক ভাস্কর্যের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সোমবার কার্তিক পুজোকে কেন্দ্র করে পর্যটন শহর দিঘার ঠিকরামোড় এলাকা যেন এক বিশাল কার্তিক বাজারে রূপান্তরিত হয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় চোখ মেললেই দেখা যাচ্ছে সারি সারি সাজানো কার্তিক প্রতিমা। ছোট, মাঝারি, বড়—সব মাপের প্রতিমা সাজিয়ে রেখেছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
প্রতিমার মনোমুগ্ধকর রঙ, নকশা ও সজ্জা দেখে দিঘা থেকে ফেরা পর্যটকরা গাড়ি থামিয়ে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকছেন। শুধু পর্যটকরা নন, স্থানীয়রাও এই প্রতিমার বৈচিত্র্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরে ঠিকরামোড় মানুষের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠেছে।
নজর কাড়ছে কার্তিকের অভিনব রূপ: এবারের কার্তিক প্রতিমার বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। কার্তিকের সাধারণ রূপের বাইরেও বহু অভিনব নামের প্রতিমা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বাবু কার্তিক’, ‘জমিদার কার্তিক’, ‘পাগড়ী কার্তিক’ ও ‘নায়ক কার্তিক’। প্রতিটি প্রতিমার মুখভঙ্গি, পোশাক, গহনা এবং রঙের ব্যবহারে রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। কারিগররা জানিয়েছেন, পর্যটকদের রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী তাঁরা প্রতিমার নকশা বদল করেন, ফলে প্রতিমার গায়ে নতুনত্বের ছাপ উঠে আসে।
দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজোর পর মরসুমের শেষ পুজোতে প্রতিমা শিল্পীরা এবার ভালো লাভের আশাবাদী। প্রতিমার দাম নাগালের মধ্যেই রয়েছে। বড় সাইজের প্রতিমার দাম ১২০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মাঝারি সাইজের প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট প্রতিমা, যার দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। মধ্যবিত্তদের নাগালের মধ্যে থাকায় এই ছোট কার্তিকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
অনেকে ঘরের শোভা বাড়াতে বিশেষ ডিজাইনের কার্তিক সংগ্রহ করছেন, আবার ভক্তিমূলক মানসিকতার মানুষ পুজো বা শুভকাজের উদ্দেশ্যে প্রতিমা কিনছেন। কার্তিক পুজোর আগে দিঘা ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ভিড় এই বাজারকে আরও জমজমাট করে তুলেছে। ছুটি কাটিয়ে ফেরার পথে বহু পর্যটক ঠিকরামোড়ে নেমে ছবি তুলছেন, কেউ প্রণাম জানাচ্ছেন, আবার অনেকে স্মারক হিসেবে ছোট কার্তিক কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ি, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, উইকএন্ডে পর্যটকের ঢল নামলে প্রতিমা বিক্রিও প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।