এতদিন ভারতীয় সেনার সাহসিকতার সঙ্গী ছিল ল্যাব্রাডর, জার্মান শেফার্ড বা বেলজিয়ান ম্যালিনয়েসের মতো বিদেশি প্রজাতির কুকুর। কিন্তু সেই তালিকায় এখন স্থান করে নিয়েছে দেশীয় প্রজাতি মুধল হাউন্ড। কেবল সীমান্ত সুরক্ষায় নয়, এই বিশেষ কুকুরগুলি এখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বেও মোতায়েন রয়েছে!
মুধল হাউন্ডের বিশেষ ক্ষমতা:
মুধল হাউন্ড, যা ক্যারাভান হাউন্ড নামেও পরিচিত, তাদের শারীরিক গঠন ও দক্ষতার কারণে বাকিদের থেকে আলাদা।
- শারীরিক বৈশিষ্ট্য: তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, লম্বাটে চেহারা, লম্বা শুঁড় এবং চটপটে স্বভাবের এই কুকুরগুলি।
- গতি ও ঘ্রাণ: এদের গতি প্রতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি এবং এরা প্রায় তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে বস্তুর গন্ধ শুঁকতে পারে।
- দক্ষতা: বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে কাজ জার্মান শেফার্ডের করতে প্রায় ৯০ সেকেন্ড লাগে, মুধল হাউন্ডের লাগে মাত্র ৪০ সেকেন্ড। শিকারের সহজাত ক্ষমতা এবং শক্ত চোয়াল এদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। পাশাপাশি এদের আনুগত্যও প্রশ্নাতীত।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
মুধল হাউন্ডের ইতিহাস বেশ পুরনো:
- রাজকীয় সঙ্গী: একসময় দাক্ষিণাত্যের রাজাদের শিকারের সঙ্গী ছিল তারা।
- শিবাজীর অনুপ্রেরণা: লোককথা অনুযায়ী, এই কুকুরগুলি শিবাজীর বড় ছেলে সম্ভাজির জীবন রক্ষা করেছিল। এরপরই শিবাজী তাঁর বাহিনীতে এই প্রজাতির কুকুর ব্যবহার শুরু করেন।
- আন্তর্জাতিক পরিচিতি: কর্ণাটকের মুধলের শেষ রাজা মালোজি রাও ঘোরপাড়ে স্থানীয় হাউন্ড ও মধ্য এশিয়ার গ্রেহাউন্ডের ক্রস-ব্রিড করে এই জাতকে উন্নত করেন। তিনি এই জাতের এক জোড়া কুকুরছানা তৎকালীন ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জকে উপহার দিয়েছিলেন, যার ফলে এই জাতটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘আত্মনির্ভরতা’:
- মোদীজির প্রশংসা: প্রায় বছর পাঁচেক আগে ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে মুধল হাউন্ড ও হিমাচলি হাউন্ডের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন।
- এসপিজি-তে মোতায়েন: কয়েক বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষায় থাকা স্পেশ্যাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি-তেও দুই মুধল হাউন্ড মোতায়েন করা হয়।
- বিএসএফ-এ প্রশিক্ষণ: এবার বিএসএফ (BSF) ১৫০টি মুধল হাউন্ডকে প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে। বর্ডারে মাদক ও বিস্ফোরক শনাক্তকরণের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তি বা সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার কাজেও তারা কাজ করবে।