‘৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটার লিস্ট না বেরোলে ভোট হবে না’! রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

রাজ্যে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন কি রাষ্ট্রপতি শাসনের (President’s Rule) অধীনে হবে? শনিবার পোলবায় এই হুঁশিয়ারি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের শাসক দল ও সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু।

ভোটার তালিকা ও রাষ্ট্রপতি শাসন: ভোটার তালিকা তৈরির কাজে রাজ্যের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সময়ে ভোটার লিস্ট না বেরোলে ভোট হবে না। তখন আর রাষ্ট্রপতি শাসন চাইতে হবে না, সাংবিধানিকভাবেই হয়ে যাবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণেই BLO-দের (Booth Level Officer) কাজের চাপ বাড়ছে। তিনি বিহারের উদাহরণ টেনে বলেন, “বিহারে এক হাজার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নেওয়া হয়েছিল চার মাসের জন্য। আর এখানে অনেকদিন আগে নির্বাচন কমিশন প্রোপোজাল পাঠালেও মমতার নির্দেশে অর্থ দফতর তার অনুমোদন দেয়নি।”

শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের বিজেপির কোনও অসুবিধা নেই। কোনও তাড়াহুড়োও নেই। ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটার লিস্ট না বেরোলে ভোট হবে না। আর ভোট না হলে ৫ মে রাষ্ট্রপতি শাসন কাউকে চাইতে হবে না, সংবিধান অনুযায়ী হয়ে যাবে। তাই নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বেশি দায়। বিজেপির কিছু নেই।”

সন্ত্রাসবাদ ও অনুপ্রবেশ: অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ জঙ্গি সাপ্লাই করার হাব। যত জঙ্গি দেশ-বিরোধী হিজবুল মুজাহিদিন তত লোককে সাপ্লাই করে। এর আগে সাদ সেখ মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ায় ধরা পড়েছিল। দেড় বছর ধরে মাদ্রাসা চালিয়েছে আর তিনবার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে।’

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কটাক্ষ: মহিলাদের আর্থিক সাহায্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘বিহারে মহিলা ভোট ফ্যাক্টর হলেও এখানে আর জি কর ফ্যাক্টর হবে। দুর্গাপুর হবে। কসবা ল কলেজে ফ্যাক্টর হবে।’ তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পকে নকল বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, “ওটা তো সরকারি টাকা। আর এখানে বিজেপি-কে দেখে নকল করেছে। মহিলাদের সশক্তিকরণের জন্য প্রথম এই স্কিম চালু করেছিলেন শিবরাজ সিং চৌহান। মুখ্যমন্ত্রী লাডলি বেহনা যোজনা।” শুভেন্দুর মতে, বিজেপি-র রাজ্যে শুধু ভাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, যুবক-যুবতীরা চাকরিও পায়। “চাকরিও দিতে হবে, সামাজিক সুরক্ষাও দিতে হবে। লাখপতি দিদিও বানাতে হবে। একসঙ্গে সব কাজ এনডিএ বা বিজেপি সব জায়গায় করেছে,” বলেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy