যাঁর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম দুই বছর আগেই সম্পন্ন করা হয়েছিল, সেই ‘মৃত’ ব্যক্তিই ২৮ বছর পর হঠাৎ ফিরে এলেন বাড়িতে! বনগাঁ মহকুমার বাগদা থানার মেহেরানি কুরুলিয়া এলাকায় এমন অবিশ্বাস্য ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, প্রায় তিন দশক আগে কাজের সন্ধানে গুজরাটে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান জগবন্ধু মণ্ডল। সেই সময় বাড়িতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে। সহযাত্রীরা ফিরে এলেও জগবন্ধু ফেরেননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবারের সদস্যরা ওঝা-গুনিন ও জ্যোতিষীদের শরণাপন্ন হন এবং সেখান থেকেই জগবন্ধুর আর বেঁচে না থাকার খবর পান। অবশেষে, কুসংস্কারের সম্মুখীন হয়ে পরিবার তাঁকে মৃত ধরে নিয়ে দুই বছর আগে তাঁর শ্রাদ্ধশান্তির কাজও সেরে ফেলে।
কিন্তু, ২৮ বছরের দীর্ঘ ব্যবধানের পর সোমবার হঠাৎই জীবিত অবস্থায় নিজের বাড়িতে এসে হাজির হন জগবন্ধু মণ্ডল। এলাকার বাসিন্দারাই তাঁকে চিনে বাড়িতে পৌঁছে দেন, কারণ সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া চেনা এলাকা তিনি নিজে খুঁজে পাননি।
আচমকা তাঁকে জীবিত দেখে পরিবারের সদস্যদের ভূত দেখার মতো অবস্থা হয়। প্রতিবেশীরা জানান, তাঁকে ঘিরে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে জগবন্ধু নাকি বাঁকুড়া জেলার রায়পুর দুবালিতে দ্বিতীয়বার বিবাহ করেছিলেন। যদিও জগবন্ধু নিজে সেই দাবি অস্বীকার করেছেন। বিতর্কের মাঝেই, ২৮ বছর পর ‘হারিয়ে যাওয়া’ পরিবারের সদস্যকে জীবিত হিসাবে ফিরে পেয়ে মণ্ডল পরিবারে এখন খুশির হাওয়া।