বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মহাজোটের শোচনীয় ফলাফল হলেও, দলের সুপ্রিমো এবং মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তেজস্বী যাদব ব্যক্তিগতভাবে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। একসময় প্রায় ১৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে গিয়ে তাঁর হারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন তেজস্বী। পারিবারিক শক্তঘাঁটি রাঘোপুর কেন্দ্র থেকে এই জয় ছিনিয়ে নিলেন তিনি।
রাঘোপুর আসনটি আরজেডি-র প্রতিষ্ঠাতা লালু প্রসাদ যাদব এবং তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবীর বারবার জয়লাভের ফলে পারিবারিক শক্তঘাঁটি হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সাল থেকে এই আসনে তেজস্বী প্রতিনিধিত্ব করছেন।
কঠিন লড়াই ও জয়:
তেজস্বীর এই বারের লড়াই ছিল বিশেষ কঠিন। তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন সতীশ কুমার যাদব—যিনি ২০১০ সালে জেডিইউ প্রার্থী হিসাবে রাবড়ি দেবীকে এই কেন্দ্র থেকে পরাজিত করে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। এছাড়াও প্রশান্ত কিশোরের জন সূরয পার্টি এবং তেজস্বীর ভাই তেজ প্রতাপ যাদবও এই কেন্দ্রে প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন। এত প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় ছিনিয়ে নিলেন তেজস্বী।
সতীশ কুমার যাদব, যিনি একসময় আরজেডি থেকেই নিজের রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন এবং যাদব সম্প্রদায়ের কাছে প্রভাবশালী নেতা, তিনি এই নিয়ে পরপর তিনবার তেজস্বীর কাছে পরাজিত হলেন। ২০১০ সালে তিনি রাবড়ি দেবীকে ১৩ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করলেও, ২০১৫ এবং ২০২০ সালের পর এইবারও বিজেপির জার্সিতে তেজস্বীর কাছে হেরে গেলেন।
কার্যত এনডিএ-র ঝড়ে মহাজোট মহা ধাক্কা খেলেও, তেজস্বীর এই ব্যক্তিগত জয় আরজেডি-র শক্ত ঘাঁটি অক্ষত রাখার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। বর্তমানে ফল ঘোষণার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে এনডিএ ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বিশাল জয় নিশ্চিত করেছে।