ফরিদাবাদ কাণ্ডে ৩ জন অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করার সূত্র ধরেই একটি বড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ড. আদিল র্যাদার-সহ আরও দুই চিকিৎসক রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে দুটি ভয়ঙ্কর জঙ্গি গোষ্ঠী— জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং আনসার ঘাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGH)-এর সঙ্গে এই চক্রের সরাসরি যোগ। ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গোটা দেশের একাধিক রাজ্যে অভিযান চালিয়ে সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এই চক্রটিকে “হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস ইকোসিস্টেম” বলে বর্ণনা করেছে। এই অভিযানে বিস্ফোরক, অস্ত্র এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ফরিদাবাদে বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার:
রাজধানী দিল্লি থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ফরিদাবাদে চিকিৎসক ডাঃ মুজাম্মিলের ভাড়া করা বাসস্থান থেকে প্রথম অভিযানে প্রায় ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক পদার্থ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে, একজন ইমামকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর একই এলাকায় তার বাসস্থান থেকে আরও ২,৫৮৩ কেজি বিস্ফোরক পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ২,৯০০ কেজি আইইডি (IED) তৈরির উপকরণ উদ্ধার করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। এছাড়া একটি গাড়ি থেকে দুটি AK-47 রাইফেল, ৩৫০ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক এবং পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সারা দেশে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল।
যেভাবে ফাঁস হলো ষড়যন্ত্র:
শ্রীনগরের নোগাউম এলাকায় দেওয়ালে পোস্টার সাঁটার একটি সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ঘটনার সূত্রপাত। ওই পোস্টারে দোকানদারদের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে লেনদেন করা নিয়ে সতর্ক করা হচ্ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পোস্টার লাগানো ব্যক্তি, কাশ্মীরী চিকিৎসক ড. আদিল আহমেদ র্যাদারকে সাহারানপুরে খুঁজে বের করে পুলিশ। ড. আদিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহকর্মী ড. মুজাম্মিল সহ আরও দুই চিকিৎসকের নাম উঠে আসে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই গ্যাংয়ের উদ্দেশ্য ছিল লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের নিজস্ব সামরিক “তানজিম” (সংগঠন) প্রতিষ্ঠা করা।