বিহার নির্বাচনের ফলাফলের মূল্যায়নে এবার আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM) একটি অপরিহার্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সীমাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাধিক্য অঞ্চলে মহাগঠবন্ধন (Mahagatbandhan) যে তাঁদের দীর্ঘদিনের জমি ধরে রাখতে পারেনি, তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ মিলল এই অঞ্চলের ফলাফলে। যে সংখ্যালঘু ভোট একসময় প্রায় নিঃশর্তে মহাগঠবন্ধনের দিকে যেত, এবার সেখানে তৈরি হয়েছে বড় ফাটল—যা কাজে লাগিয়েছে এনডিএ।
২০২০ সালের নির্বাচনে সীমাঞ্চলে পাঁচটি আসন জিতে প্রথমবার শক্তি দেখিয়েছিল ওয়াইসির দল। যদিও পরের বছর চার বিধায়ক আরজেডিতে চলে যাওয়ায় তাদের সাংগঠনিক শক্তি হ্রাস পায়। কিন্তু ২০২৫ সালের ভোটে হারানো জমি শক্তভাবে দখলের কৌশল স্পষ্ট করে তারা ২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনকেই কেবল সীমাঞ্চলের আসনগুলিতে দাঁড় করায়।
সেই কেন্দ্রীভূত পরিকল্পনার প্রতিফলন দেখা গেল ফলাফলে। মুসলিম জনসংখ্যা ৪০ শতাংশের ওপরে থাকা নয়টি আসনের মধ্যে ছ’টিতে হয় জয়ী হয়েছে অথবা এগিয়ে রয়েছে এআইএমআইএম। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা পরাজিত করেছে আরজেডি বা বামফ্রন্টের মতো মহাগঠবন্ধনের প্রধান দলগুলিকে। কেবল কিশনগঞ্জে কংগ্রেস কোনওভাবে লড়াই ধরে রাখতে পেরেছে।
এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে সীমাঞ্চলের বাইরের অপেক্ষাকৃত মিশ্র জনবিন্যাসের আসনগুলিতে (২৫-৪০ শতাংশ মুসলিম জনসংখ্যা)। মোট ১৩টি আসনের মধ্যে ১২টিই দখল করেছে এনডিএ জোট (বিজেপি–জেডিইউ–এলজেপি (আরভি))। মহাগঠবন্ধন এই অঞ্চলে একমাত্র আরজেডির একটি আসনে সাফল্য পেয়েছে, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের ভাগ্যে কিছুই জোটেনি।
এআইএমআইএমের প্রভাব ভোট শতাংশের অঙ্কে সবচেয়ে স্পষ্ট। নয়টি আসনে দলের ভোট ১৫ শতাংশের বেশি; আরও আটটি আসনে ৫ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। এই শতাংশ জয়ের জন্য যথেষ্ট না হলেও, বিরোধী ভোটভিত্তিতে বড় চিড় ধরানোর জন্য তা যথেষ্ট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইএমআইএম যদি এই ভোট না পেত, তবে বেশ কয়েকটি আসনে মহাগঠবন্ধনের প্রার্থীরাই এগিয়ে থাকতেন।
বলা যায়, আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে হালকাভাবে নেওয়ার খেসারত দিল আরজেডি ও কংগ্রেস। এই চিত্র মনে করিয়ে দিল, মুসলিম ভোট আর একঢাল নয়। সীমাঞ্চলে ভাষা, পরিচয় ও সামাজিক পটভূমির যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা রাজনৈতিক আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। ওয়াইসির এই উত্থান দেখিয়ে দিল—ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করা বড় দলগুলি সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে কি না, এই প্রশ্নে ভোটাররা নতুন বিকল্প বেছে নিচ্ছেন।