শুল্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে পাল্টা FIR খারিজ করল হাইকোর্ট! “প্রাথমিক তদন্ত হয়নি”, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি!

সোনারপুরে শুল্ক দফতরের আধিকারিককে মারধরের অভিযোগের পর পাল্টা ওই আহত আধিকারিকের বিরুদ্ধেই দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ, পুলিশ আইন মেনে প্রাথমিক অনুসন্ধান (Preliminary Enquiry) ছাড়াই পাল্টা এফআইআর গ্রহণ করেছিল।

বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, শুল্ক আধিকারিক গত ২৪ অক্টোবর মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরদিনই অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর পাল্টা তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। কিন্তু পুলিশ বিএনএসএস-এর ১৭৩ ধারায় প্রাথমিক অনুসন্ধান না করেই ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পালটা এফআইআর গ্রহণ করে, যা আইনবিরুদ্ধ। এই কারণে ২৫ অক্টোবরের এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ২৪ অক্টোবর শুল্ক আধিকারিক যে এফআইআর দায়ের করেছিলেন, পুলিশকে তার যথাযথ তদন্ত করে পদক্ষেপ করতে হবে।

আইন না মেনে অভিযোগ, পুলিশের কাছে জবাব চাইলেন বিচারপতি

আদালতে শুল্ক দফতরের আধিকারিকের পক্ষে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার জানান, পাল্টা অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে প্রাথমিক তদন্ত আদৌ হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এরপরই বিচারপতি ঘোষ পুলিশের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছিল? জবাবে পুলিশের পক্ষের আইনজীবী জানান, এই বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি বলেন, “রিপোর্টের বাইরে আপনি কিছুই জানেন না। তদন্ত তার মানে কিছুই হয়নি।” তারপরই বিচারপতি এফআইআর খারিজ করার নির্দেশ দেন।

রাজদীপ মজুমদার শুনানিতে আরও বলেন, “ওই আধিকারিকের ৪ বছরের মেয়েকেও ছাড়া হয়নি। সেও আক্রান্ত হয়েছে। ঘটনার দু’দিন পর অভিযুক্তের মা থানায় এসে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেটা এফআইআর হিসাবে নিয়ে নেওয়া হল? তারপর সঙ্গে সঙ্গে তার তদন্ত শুরু করে দিল পুলিশ? অথচ প্রাথমিক কোনও অনুসন্ধানই করা হল না!”

মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, আধিকারিককে মারধরের অভিযোগের কোনও তদন্ত করা হয়নি। উলটে আধিকারিকই মারধর করেছিলেন, এই পাল্টা অভিযোগ দায়ের হতেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। পুলিশের উচিত ছিল পাল্টা অভিযোগ দায়েরের আগে শুল্ক আধিকারিকের অভিযোগ খতিয়ে দেখা। আইনজীবী দাবি করেন, এক্ষেত্রে পুলিশ আইন মানেনি

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy