পুরো গ্রামে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা। বেশিরভাগ গ্রামবাসীই পরিযায়ী শ্রমিক। ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) এনুমারেশন ফর্ম পেয়ে তাই চরম দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কে ভুগছিলেন মালদার চাঁচল ২ নম্বর ব্লকের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে গ্রামের একজন মাত্র শিক্ষিত ব্যক্তি, সত্তরোর্ধ মহম্মদ হাকিমুদ্দিন—যিনি সকলের কাছে ‘হাকিম চাচা’ নামে পরিচিত—মুশকিল আসান হয়ে উঠেছেন।
বয়স ৭১ বছর হলেও, গ্রামের মানুষ ও বিএলও-কে সাহায্য করতে ময়দানে নেমে পড়েছেন এই বৃদ্ধ। গ্রামের মোড়ে টেবিল পেতে তিনি সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত এলাকাবাসীর এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে চলেছেন। এমনকি রাতেও সেই কাজের বিরাম নেই; হাতে ফর্ম নিয়ে গ্রামের লোকজন তাঁর বাড়িতে ছুটে যাচ্ছেন। শুধু নিজের গ্রামের প্রায় ১২০০ মানুষের নয়, আশেপাশের চণ্ডীপুর ও কানাইপুর গ্রামের বাসিন্দারাও এখন তাঁর কাছে দ্বারস্থ হচ্ছেন।
যেভাবে ‘মসিহা’ হলেন হাকিম চাচা:
বলরামপুর গ্রামে মাত্র পাঁচ থেকে ছ’জন পড়াশোনা জানেন। নিরক্ষর গ্রামবাসী ফর্মের খুঁটিনাটি, বিশেষ করে ‘সম্পর্কের জায়গায়’ গিয়ে আটকে যাচ্ছিলেন। এই অবস্থা দেখে হাকিম সাহেব প্রথমে বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করে ফর্মের খুঁটিনাটি জেনে নেন। এরপর তিনি ইউটিউবে বারবার ভিডিও দেখে ফর্ম পূরণের পদ্ধতি সম্পর্কে নিজেকে পুরোপুরি আপডেট করেন।
হাকিম চাচা বলেন, “আমি গত ১০ নভেম্বর থেকে এই কাজ করে যাচ্ছি। লেখালেখি করা আমার শখ। আমি এখানে সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বসি। নিরক্ষর মানুষজনের খুবই উপকার হচ্ছে।” তিনি জানান, যাঁরা কাজের জন্য বাইরে থাকেন, তাঁদের আধার ও ভোটার কার্ড দেখেও অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছেন। এই কাজের জন্য তিনি কারও কাছে কোনো পয়সা নিচ্ছেন না।
গ্রামের বাসিন্দা ইমাম শেখ এবং মহম্মদ আসাহ আলি জানান, হাকিমুদ্দিন সাহেব গ্রামের সবার উপকারের জন্য বিনামূল্যে এই কাজ করছেন। তাঁর এই স্বেচ্ছাশ্রম গ্রামের মানুষের কাছে চরম স্বস্তি এনে দিয়েছে।