রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ‘এসআইআর (SIR)’ আতঙ্ককে ঘিরে মৃত্যু এবং অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। এবার এই সংক্রান্ত উদ্বেগের জেরে এক ব্যক্তির গভীর রাতে বাড়ি ছেড়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরএন গুহ রোডের বাসিন্দা, বৈদ্যনাথ হাজরা (৪৬) এসআইআর-এর ভয়ে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছেন বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বছর ছেচল্লিশের পেশায় গাড়িচালক বৈদ্যনাথ হাজরা বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। কারণ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। যদিও বর্তমান ভোটার তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। বাবা-মা প্রয়াত হওয়ায় তাঁদেরও ভোটার কার্ড নেই—এই বিষয়গুলি তাঁকে আরও চিন্তিত করে তুলেছিল।
স্ত্রী জয়ন্তী হাজরা কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁর স্বামীর আধার কার্ড, ভোটার কার্ড সবই রয়েছে, কিন্তু ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় তিনি ‘কী নথি দেবেন’ তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। গতকাল গভীর রাত ২টা ৩ মিনিট নাগাদ বৈদ্যনাথবাবু মোবাইল ফোন বাড়িতে রেখেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সিসিটিভি ফুটেজে সেই ছবি ধরা পড়েছে। বন্ধু রাজু সাহা বলেন, “আমি ওকে অনেকবার বুঝিয়েছি, চিন্তা করার কিছু নেই। তারপরও এসআইআর আতঙ্কেই ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছে।” দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আরএন গুহ রোডে বসবাস করা এই ব্যক্তির এখনও পর্যন্ত খোঁজ না মেলায় পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে।
অন্যদিকে, এই একই আতঙ্কের জেরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিধাননগর পৌরনিগমের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু নগরে একটি আবাসনের বাসিন্দা সুকুমার ঘোষ (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দেশবন্ধুনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। সুকুমার ঘোষের ক্ষেত্রেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই দুটি ঘটনায় রাজ্যের বহু নাগরিকের মধ্যে এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্ক যে কতটা গভীর হয়েছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে।