ভারতের অস্ত্রাগারে বহু মারাত্মক অস্ত্র থাকলেও সম্প্রতি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এখনও তার আসল ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ মোতায়েন করেনি, কারণ ভারতের কাছে এমন কিছু প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে যা এককভাবে ১০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সমান ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের ফল—স্বদেশি পৃথ্বী এবং অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি সম্পর্কে আজ বিস্তারিত জানা যাক।
এই দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই ডিআরডিও (DRDO) দ্বারা ভারতে দেশীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে। উভয়ই পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম এবং যেকোনো অত্যাধুনিক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এড়িয়ে যেতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কখনোই একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না, বরং একসাথে শত্রুদের উপর ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।
ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি: অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র
অগ্নি হল ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং মারাত্মক দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যার পাল্লা ৭০০ কিলোমিটার থেকে ৫,০০০+ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মানে হলো, ভারতের একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উৎক্ষেপণ করেও পাকিস্তানের প্রতিটি অংশে নির্ভুলভাবে আঘাত হানা সম্ভব। বর্তমানে, চীনের প্রায় প্রতিটি এলাকা অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার আওতায় চলে এসেছে।
অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র কঠিন জ্বালানী রকেট ইঞ্জিন, জিপিএস সমন্বিত নেভিগেশন সিস্টেম এবং রি-এন্ট্রি ভেহিকল প্রযুক্তিতে সজ্জিত, যা এটিকে অত্যন্ত নির্ভুল ও দ্রুত করে তোলে। এর দীর্ঘ পাল্লা, নির্ভুলতা এবং বহু-পর্যায়ের চালনা প্রযুক্তি এটিকে বিশ্বের শীর্ষ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে।
পৃথ্বী: ভারতের প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তনকারী
পৃথ্বী হল ভারতের প্রথম স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত আঘাত হানতে সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। এর পাল্লা ১৫০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার। এটি তরল জ্বালানি ইঞ্জিনে চালিত। পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান সুবিধা হলো এটিকে মোবাইল লঞ্চার থেকে নিক্ষেপ করা যায়, যা এটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত মোতায়েনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। শত্রুরা এর উৎক্ষেপণ স্থান শনাক্ত করলেও এটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫০০ থেকে ১,০০০ কিলোগ্রাম ওজনের উচ্চ-বিস্ফোরক বা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। পৃথ্বীর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর দ্রুত মোতায়েন ক্ষমতা এবং শত্রুর লক্ষ্যবস্তু, রাডার বা অস্ত্র ডিপোতে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা।
তুলনায় কোনটি শ্রেষ্ঠ?
কৌশলগত শক্তির দিক থেকে, অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজ হলো ভারতের আসল কৌশলগত প্রতিরোধ শক্তি, যা হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক অস্ত্র বহন করে শত্রুকে প্রতিহত করতে পারে। অন্যদিকে, পৃথ্বী ক্ষেপণাস্ত্র হলো স্থল যুদ্ধের জন্য তৈরি একটি কৌশলগত অস্ত্র, যা যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত দ্রুত, নির্ভুল এবং মারাত্মক আঘাত হানতে সক্ষম। দুটি ক্ষেপণাস্ত্রই তাদের নিজস্ব ক্ষেত্রে অপরিহার্য এবং ভারতের সামরিক শক্তিকে অভেদ্য করে তোলে।