আদালতের হস্তক্ষেপে দলত্যাগ বিরোধী আইনে দোষী সাব্যস্ত হয়ে বিধায়ক পদ হারিয়েছেন কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের প্রতিনিধি মুকুল রায়। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে যে তাঁর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান সংবিধানের দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) লঙ্ঘন করেছে। মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের এই রায়কে ঘিরে এবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
বিজেপির ৩ বিধায়কের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে:
মুকুল রায়ের মামলার এই নজির বিজেপির আরও তিন ‘দলবদলু’ বিধায়কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাঁরা হলেন: হরকালী প্রতিহার, তাপসী মণ্ডল এবং সুমন কাঞ্জিলাল, যাঁরা বিজেপির প্রতীকে জেতার পর তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
-
শুভেন্দুর ভূমিকা: মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মামলাটির প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এখন এই তিন বিধায়কের বিরুদ্ধেও তিনি একই পথে হাঁটবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তাঁর হাতেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগের প্রস্তুতি:
অন্যদিকে, তৃণমূলের শীর্ষ মহল দাবি করেছে যে বিধানসভার স্পিকারের কাছে শিগগিরই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ জানানো হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, শুভেন্দুও দলত্যাগ বিরোধী আইন ভেঙেছেন একাধিকবার।
স্পিকারের অবস্থান ও আইনি জটিলতা:
এই পরিস্থিতিতে শাসকশিবির অর্থাৎ তৃণমূলের পরিষদীয় দলের এক সদস্য মন্তব্য করেছেন, “সবটাই অধ্যক্ষের হাতে। বিধানসভায় অধ্যক্ষই হলেন কাস্টোডিয়ান। এক্ষেত্রে আদালত অধ্যক্ষের কাজে বাস্তবিক হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।”
যদিও অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এখনই এই বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন এবং তাঁদের পরামর্শ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের এই সিদ্ধান্ত বিজেপির তিন দলবদলু বিধায়কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং রাজ্যের রাজনীতিতে এই বিষয় নিয়ে আরও উত্তাপ চড়বে।