বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও জেডিইউ’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র একচেটিয়া জয়জয়কারের পর, রাজ্যের বিরোধী দলগুলি বিশেষত বাম ও কংগ্রেস—এই ফলাফলের নেপথ্যে মানুষের সমর্থনের চেয়েও এসআইআর (Special Summary Revision) বা ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব বেশি বলে দাবি করেছে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ:
সিপিআইএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী বলেন, “এই ফলাফল নিয়ে বেশকিছু দিক বিশ্লেষণ করার ব্যাপার আছে। এটাও আমাদের দেখতে হবে ৩৬ লাখের যে নাম বাদ পড়ল, তার প্রভাব কীভাবে পড়েছে ভোটে। এই বাদ দেওয়ার পিছনে কোনো উদ্দেশ্য বা অঙ্ক কাজ করেছে কি না, খতিয়ে দেখতে হবে।” তিনি জানান, বামেরা মোট ৫টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে সিপিআইএম একটিতে জিতেছে।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আরও তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “রেফারি আর ফুটবল দল এক হয়ে গেলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিজেই লোকের ভোট কাটছে, ভুয়ো ভোটার নাম তুলছে। এই করেই বিজেপি নির্বাচন জিতছে।” তিনি সরাসরি দাবি করেন, “জনমত পদদলিত হয়েছে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নেই বলে।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনী আধিকারিক ঠিক করার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা শেষ হয়ে গেছে।
গিরিরাজ সিংয়ের মন্তব্য ও তৃণমূলের তোপ:
বিহার নির্বাচনের ফলাফলের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং বাংলায় পরিবর্তন আনার এবং ‘রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি’ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোর কথা বলেন। তাঁর এই মন্তব্যকে বাংলা তথা বাঙালির অপমান বলে তোপ দাগলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। একটি ভিডিয়ো পোস্টে তিনি বলেন, “বিহারের নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির নেতারা অহংকারী হয়ে পড়েছেন। গিরিরাজ সিং বলছেন, বাংলায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিরা থাকে। এবার তাদের তাড়ানোর পালা। এটা আদতে বাংলা ও এখানকার মানুষের অপমান। এই অপমানের জবাব দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, বিহারের ফলাফলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিজয় উৎসব পালনকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “কথায় আছে ছাগলের দু’টি সন্তান দুধ পান করে আর তৃতীয় সন্তান লাফালাফি করে। শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থা তেমনই। বিহার আর বাংলা এক নয়। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিল, আছে, থাকবেন।”