লালমাটির জেলা বীরভূম মানেই তারাপীঠ, বক্রেশ্বর বা শান্তিনিকেতনের মতো দর্শনীয় স্থান। আর এই জেলার রামপুরহাট শহরের কাছেই নিশ্চিন্তপুরে রয়েছে জাগ্রত দেবী বুংকেশ্বরী। ভক্তদের বিশ্বাস, এই প্রাচীন মন্দিরের পশ্চিমমুখে থাকা আসনে বসেই তন্ত্রসাধনা করেছিলেন সাধক বামদেব (বামাক্ষ্যাপা)।
রামপুরহাট রেলস্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বুংকেশ্বরী মন্দির। এই মন্দিরে আজও তন্ত্রমতে দীক্ষা না থাকলে পৌরোহিত্য করা যায় না। জনশ্রুতি রয়েছে, সাধারণ মানুষ এই মন্দিরে রাত্রিযাপন করতে পারেন না; বিশেষ তিথিতে শুধুমাত্র কৌল-তান্ত্রিকরা এখানে নিশিপুজো করেন।
কেরলের মন্দিরের আদলে নতুন নির্মাণ:
বহু পুরোনো আসল মন্দিরের পাশেই কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হচ্ছে বুংকেশ্বরী মায়ের বিশাল নতুন মন্দির। তথ্য অনুযায়ী, এত বড় মন্দির রামপুরহাট শহরে আর কোথাও নেই বললেই চলে। মন্দির কমিটি জানিয়েছে, কেরলের একটি মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ বছর ধরে এই মন্দির নির্মাণ, রং এবং কারুকার্য চলছে। যদিও আর্থিক সমস্যার কারণে কাজ কিছুটা ধীর গতিতে চলছে, তবে ভক্তদের আশা, দ্রুতই মায়ের নতুন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা হবে।
প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির সময় এই মন্দিরকে ঘিরে দু’দিনের মেলা বসে, যখন হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করেন। ভক্তদের বিশ্বাস, বুংকেশ্বরী মা সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করেন। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে ভক্তদের সমাগম হয় এবং দুপুরে মায়ের ভোগ নিবেদন করা হয়।
বীরভূম ভ্রমণে এলে তারাপীঠ থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জাগ্রত বুংকেশ্বরী মন্দিরটি একদিনের ছুটিতে ঘুরে আসা যেতে পারে।