দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও ফরিদাবাদে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র চিকিৎসক শাহিন সইদ সরাসরি পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) কম্যান্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। শুধু তাই নয়, ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মূলচক্রী উমর ফারুকের স্ত্রী আফিরা বিবির সঙ্গেও তাঁর বিশেষ যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।
জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভাইপো ছিল উমর ফারুক, যে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের প্রাণহানির পর এনকাউন্টারে নিহত হয়। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, আফিরা বিবি এখন জইশের নতুন মহিলা শাখা ‘জমাত-উল-মোমিনাত’-এর অন্যতম প্রধান মুখ। তিনি সম্প্রতি এই সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদ ‘শুরা’-য় যোগ দিয়েছেন। মাসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহারের সঙ্গে আফিরা বিবিও ধৃত ডাক্তার শাহিন সইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছিলেন।
চিকিৎসক থেকে জঙ্গি রিক্রুটার
ফরিদাবাদের আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র চিকিৎসক ছিলেন ডা. শাহিন। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি তল্লাশি করে একটি একে-৪৭ রাইফেল-সহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভারতে ‘জমাত-উল-মুমিনাত’-এর শাখা তৈরি করা এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডে মহিলাদের নিয়োগের দায়িত্ব ছিল শাহিনের ওপর।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লখনউয়ের বাসিন্দা শাহিন পূর্বে কানপুরের একটি মেডিক্যাল কলেজের ফার্মাকোলজি বিভাগের প্রধান ছিলেন (২০১২-২০১৩)। পাসপোর্ট রেকর্ড অনুযায়ী, তিনি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও (UAE) ছিলেন। সহকর্মীরা শাহিনের প্রায়শই কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
প্রাক্তন স্বামীর চাঞ্চল্যকর দাবি
চিকিৎসক ডা. হায়াত জাফরের সঙ্গে শাহিনের বিয়ে হয়েছিল, তবে ২০১২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই সন্তান এখন বাবার কাছেই থাকে। ডা. জাফর জানিয়েছেন, ২০১২ সালের পর থেকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, “শাহিন কোনওদিনই ধার্মিক ছিলেন না। বরং বেশ খোলা মানসিকতার মানুষ ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপে স্থায়ীভাবে থাকার স্বপ্ন দেখতেন। এই নিয়েই আমাদের মধ্যে মতবিরোধ হয়েছিল।”
এদিকে, আল-ফলাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহিনের সঙ্গে আরও দুই চিকিৎসক, ডা. মুজাম্মিল এবং ডা. উমর, কাজ করতেন। এদের মধ্যে শাহিন ও মুজাম্মিল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। কিন্তু গত সোমবার দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িতে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সেই ঘটনাতেই ডা. উমরের মৃত্যু হয়েছে।