বাড়ির অন্দরমহল বা অফিসের ডেস্কে এখন অনেকেরই সঙ্গী ‘লাকি ব্যাম্বু’। ঘরকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি এই গাছ ইতিবাচক শক্তির প্রতীক বলেও অনেকের বিশ্বাস। তবে শখের এই গাছকে সতেজ রাখা অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যত্নের অভাব নয়, বরং অতিরিক্ত যত্নের ভুলত্রুটিতেই অনেক সময় গাছটি হলুদ হয়ে যায় বা গোড়ায় পচন ধরে। আপনার গাছটিও কি একই সমস্যার সম্মুখীন? তাহলে জেনে নিন নার্সারির মালি ও বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু অব্যর্থ টিপস।
ভুলগুলো কোথায় হচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা অনেকেই না জেনে এমন কিছু ভুল করি যা গাছটিকে তিলে তিলে নষ্ট করে দেয়:
অতিরিক্ত জল: অনেকেই কাঁচের পাত্র কানায় কানায় জলে ভরিয়ে রাখেন। মনে রাখবেন, লাকি ব্যাম্বু আদতে ‘ড্রাসিনা’ প্রজাতির গাছ। এর কেবল শেকড়টুকু জলে থাকা প্রয়োজন। জলের স্তর কাণ্ড পর্যন্ত পৌঁছে গেলে অক্সিজেনের অভাবে কোষ নষ্ট হয় এবং গাছ পচতে শুরু করে।
জলের গুণমান: সাধারণ কলের জলে ক্লোরিন ও ফ্লোরাইড থাকে, যা এই গাছের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়া দিনের পর দিন একই জল জমিয়ে রাখলে তাতে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে, যা গোড়া পচানোর প্রধান কারণ।
গাছকে বাঁচানোর উপায় ‘ব্লুমস্কেপ’ ও ‘জয় আস গার্ডেন’-এর মতো নামী গার্ডেনিং গাইডের পরামর্শ অনুযায়ী, গাছকে সতেজ করতে নিচের নিয়মগুলো মেনে চলুন: ১. জলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: পাত্রে মাত্র ১ থেকে ২ ইঞ্চি জল রাখুন। খেয়াল রাখুন যেন শুধু শেকড়টুকু ডুবে থাকে, কোনোভাবেই যেন কাণ্ড জলে না ডোবে। ২. পচা অংশ ছাঁটাই: যদি দেখেন কাণ্ডের নীচের অংশ গলে গিয়েছে, তবে একটি ধারালো ব্লেড বা কাটার দিয়ে পচা অংশটুকু সাবধানে কেটে বাদ দিন। এরপর সুস্থ অংশটি পরিষ্কার জলে রাখুন। ৩. পরিশ্রুত জল ও নিয়মিত বদল: গাছের সুস্বাস্থ্যের জন্য সাধারণ কলের জলের বদলে ফিল্টার করা বা মিনারেল ওয়াটার ব্যবহার করা শ্রেয়। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পাত্রের জল অবশ্যই বদলে ফেলুন। ৪. সঠিক আলোর স্থান: লাকি ব্যাম্বুকে সরাসরি কড়া রোদে রাখবেন না। উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলো (Indirect Light) এই গাছের জন্য সবচেয়ে আদর্শ।
এই সহজ ঘরোয়া নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার সাধের লাকি ব্যাম্বু থাকবে সবুজে মোড়ানো এবং সতেজ। সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার ঘরের এই শখের গাছটিকে দীর্ঘজীবী করতে।





