প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গার্লফ্রেন্ডের বাবা-মায়ের কাছে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যেই অতিরিক্ত ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ৩৬ বছর বয়সি চীনা যুবক লি জিয়াং (Li Xiang)। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই কাল হলো। গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করানোর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রয়াত হলেন ১৩৪ কেজি ওজনের এই যুবক।
লি-র বড় ভাই সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে (SCMP) জানান, লি একটি সিরিয়াস সম্পর্কে ছিলেন এবং বিয়ের আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবেই দ্রুত ওজন কমাতে চেয়েছিলেন। হেনান প্রদেশের শিনশিয়াং শহরের বাসিন্দা লি-র উচ্চতা ছিল ১৭৪ সেমি, আর ওজন ১৩০ কেজিরও বেশি। তিনি স্থূলতা এবং খাবারের প্রতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারার সমস্যায় ভুগছিলেন।
অপারেশন ও জটিলতা:
৩০ সেপ্টেম্বর লি-কে ঝেংঝো শহরের নাইথ পিপলস হসপিটালে ভর্তি করা হয়। ২ অক্টোবর গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করা হয় এবং ডাক্তাররা প্রাথমিকভাবে এটিকে সফল বলে জানান। অপারেশনের পর তাঁকে পর্যবেক্ষণের জন্য আইসিইউতে রাখা হয়। কিছু উন্নতি দেখা দিলে তাঁকে সাধারণ ওয়ার্ডে সরানো হয়।
কিন্তু ৪ অক্টোবর ভোরে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালের কর্মীরা তাঁকে অচেতন ও নিঃশ্বাসহীন অবস্থায় পান। দ্রুত আইসিইউতে ফিরিয়ে নিয়ে চিকিৎসা শুরু হলেও, ৫ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা (Respiratory Failure) উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবার ও হাসপাতালের বক্তব্য:
লি-র চিকিৎসা নথিতে দেখা যায়, সার্জারির আগেই তাঁর একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক সমস্যা ছিল—ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত নাক ডাকা, মেটাবলিক সিন্ড্রোম, উচ্চ রক্তচাপ এবং ফ্যাটি লিভার। এই সব মিলিয়ে তিনি উচ্চ ঝুঁকির রোগী ছিলেন। ফলে লি-র পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তুলেছে: এত ঝুঁকিপূর্ণ রোগীকে সার্জারির অনুমতি দেওয়ার আগে যথেষ্ট পরীক্ষা করা হয়েছিল কি? এবং অবস্থার অবনতি হওয়ার পর চিকিৎসা কি দ্রুত ও যথাযথভাবে শুরু হয়েছিল?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, লি সার্জারির সব ক্লিনিক্যাল শর্ত পূরণ করেছিলেন এবং তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ার পরই স্টাফরা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য পরিবার ও হাসপাতাল উভয়েই ময়নাতদন্তের অনুরোধ করে। ১০ অক্টোবর ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং হাসপাতালের বক্তব্য—চূড়ান্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।