ছত্তীসগড়ের সুকমা জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হলো তিন মাওবাদীর (Naxals Killed during encounter)। নিহতদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে। রবিবার বস্তার আইজি পি সুন্দররাজ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে তুমালপাড় গ্রামের কাছে।
সুকমা পুলিশ (Sukma Police) পরে জানায়, মৃতদের মধ্যে রয়েছে মিলিশিয়া কমান্ডার ও স্নাইপার বিশেষজ্ঞ মাড়ভি দেবা। পাশাপাশি দুই মহিলা মাওবাদী, পোডিয়াম গঙ্গি ও সোড়ি গঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) একটি ৩০৩ রাইফেল, বিসিজিএল লঞ্চার এবং একাধিক গুলি উদ্ধার করেছে। এলাকায় এখনও তল্লাশি অভিযান চলছে।
কয়েক দিন আগেই বিজাপুরে ৬ মাওবাদী খতম:
এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই, ১১ নভেম্বর ছত্তীসগড়ের বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছিল আরও ছ’জন কুখ্যাত মাওবাদী। তাদের মধ্যে ছিল উর্মিলা এবং বচন্না কুডিয়াম। এই ছ’জনের মোট মাথার দাম ছিল ২৭ লক্ষ টাকা।
বিজাপুরের পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট জিতেন্দ্র যাদব জানান, ইন্দ্রাবতী ন্যাশনাল পার্ক এলাকার কন্দুলনর ও কাচলারাম গ্রামের জঙ্গলে নিরাপত্তাবাহিনীর দল মুখোমুখি হয়। গোপন সূত্রে মাওবাদী নেতাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ডিআরজি (বিজাপুর ও দান্তেওয়াড়া) এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) যৌথ দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
বচন্নার অপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস:
এসপি যাদব জানান, নিহত মাওবাদী নেতা বচন্না ওরফে কন্না (৩৫) গত এক দশকে একাধিক নকশাল হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল। পুলিশ, সাধারণ মানুষ, এমনকি উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকেও সে নিশানা করত।
-
গুরুত্বপূর্ণ হামলা: বচন্না ২০০৮ সালের কংগুপল্লি পুলিশ পোস্ট হামলা এবং ২০১৬ সালের নুকনারপাল ক্যাম্প হামলারও অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিল।
-
খুন ও সন্ত্রাস: গ্রামবাসীদের পুলিশ-বহির্ভূত খবরদাতা বলে সন্দেহ করে ২০ জনেরও বেশি মানুষকে খুনের অভিযোগ ছিল বচন্নার বিরুদ্ধে। এছাড়া, সে ছ’টি আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, গাড়ি ও মোবাইল টাওয়ার জ্বালিয়ে দিয়েছে।
এসপি যাদব বলেন, “ওর মৃত্যু মানে এই অঞ্চলে মাওবাদী সন্ত্রাসের এক দীর্ঘ এবং ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের ইতি।” অন্যদিকে, উর্মিলা ছিল পিএলজিএ (পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি)-র ব্যাটালিয়নের লজিস্টিক সাপোর্টের মূল দায়িত্বে।
বর্তমানে ছত্তীসগড় সরকার মাওবাদ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলছে এবং প্রতিদিন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে অভিযান চলছে।