কেরলে আসন্ন স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে এক বিরল দৃশ্য দেখা গেল—এক মায়ের তিন মেয়েই এবার সিপিএমের টিকিট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কোঝিকোড়ের পেরাম্ব্রায় তিন সন্তানের এই নির্বাচনী লড়াই দেখে আবেগাপ্লুত ও গর্বে ভরে উঠেছেন তাদের মা ওমানা আম্মা।
পেরাম্ব্রার এরাভাত্তুরের বাসিন্দা ওমানা আম্মার আনন্দের কারণ, তাঁর তিন মেয়ে— ভানাজা, সারিথা এবং সাজিথা—এ বছর প্রয়াত পিতা কুঞ্জিকৃষ্ণন নায়ারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নির্বাচনী ময়দানে নেমে পড়েছেন। কুঞ্জিকৃষ্ণন নায়ার কেবল একজন সক্রিয় সিপিএম কর্মীই ছিলেন না, বরং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তিনি একজন রাঁধুনি, শিল্পী, লেখক, নাট্যকার, নৃত্যশিল্পী এবং হস্তশিল্প-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিঃস্বার্থ অবদানের জন্য পরিচিত ছিলেন। জনসেবার জন্য নিবেদিতপ্রাণ বাবার এই সংস্কৃতি তাঁর মেয়েদের গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। ফলস্বরূপ, তাঁরা তিনজনই অল্প বয়স থেকেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হয়ে ওঠেন।
সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরই তিন বোন মায়ের আশীর্বাদ নিতে সটান হাজির হন পৈতৃক বাড়ি ‘কিজাক্কাইল’-তে। চূড়ান্ত আশাবাদী ওমানা আম্মা বলেন, “সকলেই ভালো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবে।”
তিন বোনের পরিচিতি:
-
ভানজা (৫৬): বড় মেয়ে ভানজা পেরাম্ব্রা পঞ্চায়েতের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এলডিএফ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এটি তাঁর প্রথম নির্বাচনে লড়াই। বর্তমানে পেরাম্ব্রা আঞ্চলিক সমবায় ব্যাংকের পরিচালক ভানজা আগে এরাভাত্তুর দক্ষিণ শাখার সচিব ছিলেন। কুদুম্বশ্রী এবং মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিম-সহ স্থানীয় উন্নয়নমূলক যে কোনো উদ্যোগে তিনি বরাবরই সক্রিয়। তাঁর স্বামী নারায়ণন এবং ছেলে অনুরাগও সক্রিয় দলীয় কর্মী।
-
সারিথা (৫০): দ্বিতীয় বোন ব্লক পঞ্চায়েতের একটি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সারিথা কুন্নুম্মাল ব্লক পঞ্চায়েতের কাইভেলি বিভাগের এলডিএফ প্রার্থী। তিনি এর আগে ইউডিএফ-এর দীর্ঘদিনের রাজত্বের পর কায়াক্কোডি পঞ্চায়েতের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি কায়াক্কোডি পঞ্চায়েতে কল্যাণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এসএফআই (SFI) এবং ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার পর, সারিথা বর্তমানে সিপিএম-এর পাট্টেরকুলাঙ্গারা (পূর্ব) শাখা কমিটির সদস্য।
-
সাজিতা (৪৬): ছোট মেয়ে সজিতাও মণিয়ুর পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি মন্থরাথুর কুইয়ালথের সুরেশের স্ত্রী। সজিতা মন্থরাথুর কেন্দ্র শাখার প্রাক্তন সম্পাদক এবং পঞ্চায়েতে কুদুম্বশ্রী সিডিএস (কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি)-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মহিলা সমিতি এবং কেএসকেটিইউ (কৃষি শ্রমিক ইউনিয়ন) গ্রাম কমিটিরও সক্রিয় সদস্য।
মা ও মেয়েরা সকলেই একযোগে জানাচ্ছেন, তাঁদের বাড়ি থেকে কাজের জন্য প্রচুর সমর্থন পেয়েছেন, আর সেকারণেই তাঁরা বাবার দেখানো পথে সক্রিয় রাজনীতির জগতে পা রাখতে পেরেছিলেন। তারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকেও সমর্থন আশা করেন। কুঞ্জিকৃষ্ণন নায়ারের মৃত্যুর বহু বছর পরও, তাঁর মেয়েরা বাবার দেখানো পথেই হেঁটে চলেছেন। ওমানা আম্মা তাঁর কন্যাদের জনসেবার সঙ্গে পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যও কৃতিত্ব দিচ্ছেন। তাদের জয়ের জন্য প্রার্থনা করার সময়, তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর প্রয়াত স্বামীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।