দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থিত ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয় এখন এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী চক্রান্তের কেন্দ্রবিন্দু। গত সোমবার লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া গাড়ি বোমা হামলার তদন্তে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত চারজন চিকিৎসকের উপর গোয়েন্দাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকদের পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সংগঠনের সাথে তাদের কোনো যোগসূত্রের কথা অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ডাঃ উমর মোহাম্মদ, ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল, ডাঃ আদিল রাথের এবং ডাঃ শহীদ সাঈদ-এর। জানা গেছে, বিস্ফোরণে নিহত ডাঃ উমর মোহাম্মদের গাড়িটি ছিল একটি হুন্ডাই আই২০, যা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি তিনজন চিকিৎসক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।
৬ ডিসেম্বর ‘অপারেশন’: ২০ লক্ষ টাকা এবং এনপিকে সার
তদন্তে উঠে এসেছে এক মারাত্মক ষড়যন্ত্রের কথা। এই চার ডাক্তার দিল্লি জুড়ে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য প্রায় ২০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, ৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ যেদিন বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল, সেদিনই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিলেন এই চিকিৎসকরা। সংগৃহীত ২০ লক্ষ টাকা ডাঃ উমরকে দেওয়া হয়েছিল, যা দিয়ে তিনি গুরুগ্রাম, নুহ এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কিনেছিলেন, যার মূল্য ছিল প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এই সার, যা আইইডি তৈরির মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, তা উদ্ধার করা হয়েছে। ফরিদাবাদে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩৫০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সহ ২,০০০ কেজিরও বেশি বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে।
‘১৭ নম্বর ভবন’ ও ‘১৩ নম্বর কক্ষ’-এর রহস্য
প্রায় ৭০ একর জুড়ে বিস্তৃত আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়টিই ছিল এই গোপন চক্রান্তের কেন্দ্র। ডঃ উমর এবং তার সঙ্গীরা ১৭ নম্বর ভবনে নিয়মিত গোপন বৈঠক করতেন। এই ভবনের ১৩ নম্বর কক্ষটি ছিল ডাঃ মুজাম্মিলের, যেখানে বসে সন্ত্রাসীরা দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার পরিকল্পনা করত বলে পুলিশের ধারণা।
তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, ল্যাব থেকে বোমা তৈরির রাসায়নিক পাচারের পরিকল্পনা হয়েছিল। মুজাম্মিলের ঘর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব থেকেই ডাঃ উমর ও ডাঃ শাহীন রাসায়নিক সংগ্রহ করে ফরিদাবাদের ধৌজ ও তাগা গ্রামের ভাড়া বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিলেন। বর্তমানে ডাঃ মুজাম্মিলের কক্ষটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, পেনড্রাইভ, এবং কোড ওয়ার্ড ও এনক্রিপ্টেড বার্তায় ভরা দুটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। এই ডায়েরিগুলিতে বারবার ‘অপারেশন’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ল্যাব থেকে পাচার হওয়া রাসায়নিকগুলি অক্সিডাইজার সহ সামান্য অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশিয়ে বিস্ফোরক তৈরির কাজে ব্যবহৃত হত।