আজকের যুগে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এড়াতে এবং যৌনবাহিত রোগের (STD) হাত থেকে বাঁচতে কন্ডোম সবচেয়ে সহজলভ্য ও কার্যকরী উপায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কন্ডোম ব্যবহার করলেই যে ১০০ শতাংশ সুরক্ষা মিলবে, তা নয়। যদি এটি ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকে, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসাবধানতা বা সঠিক তথ্যের অভাবে মিলনের আনন্দ মাটি হতে পারে, এমনকি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। জেনে নিন কন্ডোম ব্যবহারের সঠিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:
১. এক্সপায়ারি ডেট পরীক্ষা করুন কন্ডোম ব্যবহারের আগে প্যাকেটের গায়ে লেখা মেয়াদের তারিখ (Expiry Date) অবশ্যই দেখে নিন। মেয়াদোত্তীর্ণ কন্ডোম সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে এবং এর কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
২. প্যাকেট খোলার সঠিক উপায় প্যাকেট খোলার সময় কখনোই দাঁত বা কাঁচি ব্যবহার করবেন না। এতে কন্ডোম ফুটো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সবসময় হাত দিয়ে আলতো করে প্যাকেটটি ছিঁড়ুন।
৩. বাতাসের বুদবুদ থেকে সাবধান কন্ডোম পরার আগে তার সামনের দিকের সামান্য অংশ (যেখানে বীর্য জমা হয়) আঙুল দিয়ে চেপে ধরুন। এতে ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যাবে। ভেতরে বাতাস থেকে গেলে মিলনের সময় কন্ডোম ফেটে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।
৪. সঠিক দিক চিনে নিন কন্ডোম পরার আগে দেখে নিন সেটি সোজা দিকে আছে কি না। ভুল করে উল্টো দিকে পরে ফেললে সেটি খুলে ফেলে নতুন একটি ব্যবহার করুন। একবার উল্টো দিকে স্পর্শ হওয়া কন্ডোম পুনরায় ব্যবহার করা অনিরাপদ।
৫. লুব্রিকেন্ট ব্যবহারে সতর্কতা যদি বাড়তি লুব্রিকেন্ট ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই ‘ওয়াটার-বেসড’ লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। তেল বা ভ্যাসলিন জাতীয় লুব্রিকেন্ট কন্ডোমকে নষ্ট করে দিতে পারে।
৬. ব্যবহারের পর অপসারণ মিলন শেষে লিঙ্গ শিথিল হওয়ার আগেই কন্ডোমটি সাবধানে খুলে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন যেন ভেতরের তরল বাইরে গড়িয়ে না পড়ে। এরপর একটি টিস্যু পেপারে মুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলুন। কখনোই এটি টয়লেটে ফ্লাশ করবেন না।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: মনে রাখবেন, একটি কন্ডোম শুধুমাত্র একবার ব্যবহারের জন্যই তৈরি। সুরক্ষিত ও আনন্দদায়ক যৌন জীবনের জন্য সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।