আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাক্তিয়া-সহ একাধিক এলাকায় পাক বায়ুসেনা ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। তালিবান সরকারের দাবি, এই হামলায় সাধারণ জনবসতি লক্ষ্য করা হয়েছে, যার ফলে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, কান্দাহারের তালিবান আল-বদর কর্পসের সদর দপ্তর, পাক্তিয়ার চামকানি জেলার সামরিক ঘাঁটি এবং কাবুলের পুল-ই-চরখিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তান থেকে জঙ্গি গোষ্ঠী নির্মূল করতেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে ইসলামাবাদ এখনো নীরব। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলায় ৪ জন নাগরিক নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আফগানিস্তান। তারা জানিয়েছে, পাকিস্তান সেনা হামলা বন্ধ না করলে আরও বড় প্রত্যাঘাত করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের মূলে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (TTP) সক্রিয়তা। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মদতেই এই জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের দেশে নাশকতা চালাচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে পাকিস্তান সরাসরি আফগানিস্তানের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। দুই দেশের এই সংঘাত ও পালটা-পালটি হামলার ঘটনায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।