কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রামনবমীর পুণ্যলগ্নে রণক্ষেত্রর চেহারা নিল বীরভূম। জেলার সিউড়ি, দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া এবং রামপুরহাটে মিছিলে দেদার অস্ত্রের আস্ফালন দেখা গেল। তরোয়াল, কাটারি, কুঠার থেকে শুরু করে খড়্গ— বাদ যায়নি কিছুই। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, মিছিলে কোনও অস্ত্র ব্যবহার বা উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশিকাকে কার্যত নস্যাৎ করে বীরভূমের পথে পথে চলল শক্তি প্রদর্শন।
শুধু অস্ত্রই নয়, শব্দদানব ডিজে-র তাণ্ডবেও নাজেহাল হন সাধারণ মানুষ। অনেক জায়গায় মিছিলে বিজেপি প্রার্থীদের সরাসরি নেতৃত্ব দিতে দেখা গেলেও, তাঁরা অস্ত্রের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেছেন। বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “মানুষ রাম-মোহে মেতেছেন, এখানে কোনও অস্ত্র মিছিল চোখে পড়েনি।” পাল্টা তোপ দেগে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি আইন বা সংবিধান কিছুই মানে না।”
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ায় বর্তমানে পুলিশ ও প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “রামনবমীতে কোনও হিংসা হলে তার দায় বিজেপি ও কমিশনকেই নিতে হবে।” প্রশাসনের চোখের সামনে এই প্রকাশ্য অস্ত্র প্রদর্শন এবং ডিজে-র তাণ্ডব নিয়ে এখন বীরভূম জুড়ে বইছে বিতর্কের ঝড়।