সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন ধমক! রাহুল-রাউতদের পিটিশনে কমিশনকে নোটিস দিলেও কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির

ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা’ (SIR) নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি হাই-প্রোফাইল মামলায় চরম সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতসহ ১২ জন বিরোধী নেতার দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে মামলাটি সাময়িকভাবে গ্রহণ করলেও শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতের বিতর্কিত আচরণ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, রাহুল গান্ধী ও সঞ্জয় রাউতদের এই পিটিশনটি আপাতত তালিকাভুক্ত করা হলেও রাউতের কাছ থেকে কড়া জবাবদিহি নেওয়া হবে। শুনানির সময় বেঞ্চ কঠোর সুরে মন্তব্য করে যে, আগামী শুনানির দিনে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর থেকে তাঁর সাম্প্রতিক আচরণের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। কিছুদিন আগেই সঞ্জয় রাউত প্রকাশ্যেই প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন, কারণ প্রধান বিচারপতি রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খড়গের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
অন্যান্য আইনজীবীরা যখন অভিযোগ তোলেন যে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে মিছিল করে বিচার বিভাগের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন, তখন প্রধান বিচারপতি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমাদের কেউ ভয় দেখাতে বা হুমকি দিতে পারবে না। আমরা সমাজ থেকে আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন জগতে বাস করি না। সুপ্রিম কোর্টের বাইরে কে কী বক্তব্য রাখছেন আর আদালতের ভেতরে কী বলছেন, তার সবটাই আমাদের নজর এড়িয়ে যায় না।” বিরোধীদের এই যৌথ পিটিশনে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে ভোটার তালিকার নাম বাদ পড়া নিয়ে একটি স্বাধীন অডিট কমিটির দাবি জানানো হয়েছে। আদালতের এই কড়া অবস্থানের পর বিরোধী শিবিরের অন্দরে চরম অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।