“ওরা ভয়ে পালিয়েছিল, আর এরা সত্যিকারের ‘বব্বর শের’!” দল ছাড়াদের নিয়ে রাহুল গান্ধীর মুখে চরম কটাক্ষ

দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেসের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রীতিভোজ ও চা চক্রের আসর হঠাৎই রূপ নিল চরম রাজনৈতিক তপ্ত তর্কে। তরুণ কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে একান্তে খোলামেলা আলোচনায় বসে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী তীব্র আক্রমণ শানালেন সেই সমস্ত প্রাক্তন নেতাদের বিরুদ্ধে, যাঁরা অতীতে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অকুণ্ঠ প্রশংসা করলেন সেই সমস্ত লড়াকু কর্মীদের, যাঁরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দল ছেড়ে যাননি এবং একজিট লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘নিউজ ১৮’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানান যে যাঁরা রাজনৈতিক চাপ, মামলা বা লোভের বশে কংগ্রেস ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁরা আসলে ভিতু ও স্বার্থপর। এই প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, আরপিএন সিং এবং जितিন প্রসাদের মতো হেভিওয়েট নেতাদের নাম, যাঁরা অতীতে হাত শিবির ছেড়ে বিজেপিতে ভিড়েছিলেন। রাহুলের এই ক্ষোভ প্রকাশের পরেই আসরে নামেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খड़गे। তিনি এক তীক্ষ্ণ ও রসাত্মক মন্তব্য করে বলেন যে, যাঁরা দল ছেড়ে চলে গেছেন, তাঁরা তো শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধীর দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবেই পরিচিত ছিলেন!
খাড়গের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের উত্তরে রাহুল গান্ধী স্বীকার করেন যে অতীতে ওই সমস্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও চরিত্র চেনার ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব বিচারে কিছুটা ভুল হয়েছিল। তবে দলত্যাগীদের সমালোচনা করার পাশাপাশি যারা শত চাপের মুখেও কংগ্রেসের আদর্শ আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন, সেই তরুণ কর্মীদের ‘বব্বর শের’ বা সিংহ বলে অভিহিত করেন রাহুল। তিনি বলেন, এই নির্ভীক কর্মীরাই দলের আসল শক্তি, যাঁরা কোনো আইনি নোটিস বা হুমকিকে ভয় পান না।
এই ঘরোয়া আলোচনার মধ্যেই রাজনীতির মারপ্যাঁচ নিয়ে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন রাহুল গান্ধী। তিনি তাঁর প্রয়াত ঠাকুমা তথা দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি অমূল্য শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, রাজনীতিতে বাইরে থেকে যাকে বন্ধু বলে মনে হয়, সে মোটেও বন্ধু না-ও হতে পারে; আবার অন্যদিকে যাকে প্রতিপক্ষ ঠেকে, সে অনেক সময় আসল বিপদে পাশে দাঁড়ায়। ভারতীয় যুব কংগ্রেস, এনএসইউআই (NSUI) এবং সেবাদলের প্রায় ৬০ জন তরুণ কর্মী ও নেতার উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনানুষ্ঠানিক চা চক্রের আলোচনা এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।