“উৎসবের মুখে মিষ্টিমুখ করা দায়! এক লাফে হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম, নেপথ্যে ৫টি বড় কারণ”

উৎসবের মরসুম মানেই ঘরে ঘরে মিষ্টিমুখ আর আনন্দের জোয়ার। কিন্তু সেই আনন্দেই এবার বড়সড় টান ধরতে চলেছে। এল নিনো, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বজুড়ে চলা ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে লাগামছাড়াভাবে চড়ছে চিনির দাম। রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে ভারতের বাজারেও, যার ফলে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে চাষিরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বাজারে চিনির এই ঊর্ধ্বমুখী দামের নেপথ্যে মূলত কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • ১. এল নিনো ও আবহাওয়া পরিবর্তন: প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাবে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও গুজরাটের মতো প্রধান আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলিতে খরা ও অনিয়মিত বৃষ্টির জেরে মার খেয়েছে আখের ফলন। পর্যাপ্ত জলের অভাবে আখের গুণগত মান ও সুক্রোজের পরিমাণ কমে যাওয়ায় চিনি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

  • ২. ফসলে রোগ ও পোকার আক্রমণ: উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে আখের প্রধান জাতগুলিতে ‘রেড রট’ (লাল পচন রোগ) এবং টপ বোরার পোকার আক্রমণে ব্যাপক ফসল নষ্ট হয়েছে, যা উৎপাদন হ্রাসের অন্যতম বড় কারণ।

  • ৩. আন্তর্জাতিক বাজারে ঘাটতি ও বিশ্ব পরিস্থিতি: বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির জোগান কম থাকায় তার প্রভাব সরাসরি আমদানির খরচ ও দেশীয় বাজারে পড়ছে।

  • ৪. উৎসবের মরসুমে হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি: দুর্গাপূজা থেকে শুরু করে দীপাবলি—বছরের এই সময়টাতে মিষ্টি ও কনফেকশনারি সামগ্রীর চাহিদা বহুলাংশে বেড়ে যায়। চাহিদার সঙ্গে জোগানের এই ফারাক দামকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

  • ৫. মজুতদারি ও ফটকা কারবার: বাজারের এই অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একাংশ ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইথানল নীতি বা জ্বালানি নিরাপত্তায় আখের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, সামগ্রিক এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত আবহাওয়াজনিত ফসলহানি এবং বিশ্ববাজারের ঘাটতিকেই প্রধান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে যাতে এর প্রভাব না পড়ে, সেদিকে নজর রেখে ইতিমধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে একাধিক কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে প্রশাসন।